দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পুপু প্রদেশের মেচিনা শহর সংলগ্ন মাটিম্বু এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বাংলাদেশি আমিনুর রহমান সিদ্দিকী (৪৮) নিহত হওয়ার ঘটনা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি শনিবার সকালে দক্ষিণ আফ্রিকা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব অঞ্জন এলাহী নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আমিনুর রহমান সিদ্দিকী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের আব্দুল আজিজ সিদ্দিকীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার সন্ধানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পুপু প্রদেশে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি মাটিম্ব এলাকায় ‘আকাশ সুপারশপ’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও স্বনামধন্য একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলের দিকে হঠাৎ করে অস্ত্রধারী একদল দুর্বৃত্ত আমিনুর রহমানের সুপারশপে ঢোকে। কোনো ধরনের কথোপকথন ছাড়াই তারা আমিনুরের মাথায় গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশিদের ওপর হামলা, লুটপাট ও হত্যার ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে আমিনুর রহমান সিদ্দিকীর মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশি নেতারা বলেছেন, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে অনেকেই চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা দাবি করেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন দ্রুত দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।
অঞ্জন এলাহী জানান, হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহায়তায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আমিনুর রহমানের পরিবারকে দ্রুত খবর জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, “আমিনুর রহমান সিদ্দিকী সুপারশপে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই দুর্বৃত্তরা ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব তার লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে।” দক্ষিণ আফ্রিকার বিএনপি নেতাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, লাশ দেশে পাঠানোর জন্য সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং খুব দ্রুতই এটি বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিহতের পরিবার দেশে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। গ্রামের বাড়ি গোড়াইল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, আমিনুর রহমানের মতো একজন পরিশ্রমী ও উদ্যমী মানুষের মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্যই বড় ক্ষতি। তার মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ পেয়েছে। তারা দাবি করেন, সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
হত্যাকাণ্ডের এই খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনেকেই প্রয়াত আমিনুরের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এই হত্যার ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন। নিহতের স্বজনরা বলেন, জীবিকার তাগিদে আমিনুর দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। সেখানে ব্যবসা করে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। অথচ নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হলো।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।
আকাশজমিন / আরআর