ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

৮–১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো দিন

তফসিলের অপেক্ষায় দেশ


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৪ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো দিন ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রোববার নির্বাচন ভবনে কমিশনের বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা হবে—প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগেই যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটিই কার্যকর হচ্ছে। সপ্তাহটি ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে হওয়ায় যে কোনো দিন তফসিল প্রকাশ করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে জানিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আজকের বৈঠকে তফসিল ঘোষণা, গণভোটের প্রস্তুতি এবং ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, এবার ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হচ্ছে। আগের মতো সকাল আটটায় নয়, সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে এবং চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। তিনি জানান, সময় বাড়ানোর লক্ষ্য হলো ভোটারদের আরও স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়া ও ভিড় কমানো।

তিনি বলেন, “এ সপ্তাহের যেকোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হবে। আমরা সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছি। ভোট গ্রহণের দীর্ঘ সময়, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা—সব বিষয় নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”

সানাউল্লাহ আরও বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের তালিকা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন, ইভিএম বা ব্যালট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত—সব বিষয়েই প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচন হবে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্যতার।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ভোটাররা যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারেন—এটাই নির্বাচন কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকার। নির্বাচনের পরিবেশ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তফসিল ঘোষণার পরপরই মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহারসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে। কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট আয়োজনের জন্য ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার বিকল্প নেই। ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট সব কাজ সময়মতো শেষ করতে কমিশন চায় কোনো ধরনের বিলম্ব না হোক।

আজকের বৈঠকে গণভোটের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। দায়িত্বশীলরা জানান, জাতীয় সনদ নিয়ে ভোট আয়োজন একটি বড় কর্মযজ্ঞ হলেও নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। ভোটকেন্দ্রের তালিকা, লজিস্টিক ব্যবস্থা, কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ—সবই দুই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে।

সানাউল্লাহ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—একটি অংশগ্রহণমূলক, নির্ভুল ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন। ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যা যা দরকার, সব করা হবে।” তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। রাজনীতি, প্রশাসন ও ভোটারদের আগ্রহ এখন পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা ঘিরে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর