ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

ধর্মের নামে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় একটি গোষ্ঠী : মির্জা ফখরুল


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৪০ পিএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এক ধরনের বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে এবং এর পেছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। তাঁর অভিযোগ, একটি মহল ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন তৈরি করতে চাইছে, যা দেশের জন্য বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, “একটা গোষ্ঠী, মহল ধর্মের নামে বাংলাদেশে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়।”

রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সব সময় ধর্মভীরু ও শান্তিপ্রিয়। “আমরা ধর্মকে মানি, পালন করি। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র ও সমাজে বিভাজন সৃষ্টির রাজনীতি আমরা বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকবে—এটাই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মূল দর্শন ছিল।”

তিনি বলেন, যারা বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, তারা মূলত দেশের ঐক্য ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বিএনপি এসব অপচেষ্টা রুখে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, বিএনপিকেই আবার দেশের নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সব নেতাকর্মীকে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “সমস্ত অপপ্রয়াসকে পরাজিত করেই আমাদের এগোতে হবে।”

ছাত্রদলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির ৩১ দফা দাবি বা কর্মসূচিকে ছাত্রদল তৃণমূলে পৌঁছে দিতে পারেনি। তিনি বলেন, “আমি যখন গ্রামে যাই, দেখি এই কর্মসূচির উপস্থিতি নেই। ছাত্রদলকে বলবো—তোমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা বাড়াও। কমিটি গঠন, সংগঠন শক্তিশালী করা—এসব কাজ আরও জোরদার করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তোমাদের ভূমিকা কমে গেছে। যার কারণে বিগত নির্বাচনগুলোতে আমরা প্রত্যাশিত ফল পাইনি।”

তিনি বলেন, ছাত্রদলকে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে হবে। তৃণমূলসহ সব পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপির লক্ষ্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয়, বরং একটি সমানাধিকারভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। আমরা চাই—শিক্ষিত তরুণরা জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হোক, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠুক।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি যুবসমাজকেও দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক ধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর