ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

পেট্রোবাংলার পরিকল্পনায় বড় ফাঁক

২০৩৫ পর্যন্ত গ্যাস ঘাটতি


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১:১৮ পিএম

পেট্রোবাংলার দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহ পরিকল্পনায় দেখা যাচ্ছে ২০৩৫ পর্যন্ত দেশে গ্যাসের ঘাটতি প্রতিনিয়ত থাকবে। দেশীয় খনিজ ও এলএনজি উভয়ের ওপর নির্ভরশীল এই পরিকল্পনায় প্রতি বছরই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম দেখানো হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

চলতি অর্থবছরে দেশে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় খনিগুলো থেকে ১৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ১০৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এলএনজি সরবরাহ প্রায়শই অসম্পূর্ণ হওয়ায় ঘাটতি ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি।

২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে যথাক্রমে ৩৮৫০ ও ৩৮৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ বাড়ানো না হলে ঘাটতি দাঁড়াবে ৯২৫ ও ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলা নতুন ১০০টি কূপ খননের মাধ্যমে ২০২৭-৩০ সালের মধ্যে দেশীয় সরবরাহ ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তবে এলএনজি সরবরাহ সেই সময় পর্যন্ত ১০৫০ মিলিয়ন ঘনফুটই থাকবে।

২০২৮-২৯ সালে চাহিদা বাড়বে ৩৯২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে, ঘাটতি ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে। ২০৩০-৩১ সালে মহেশখালীতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল চালু হবে, এলএনজি সরবরাহ দৈনিক ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধি পাবে। দেশীয় সরবরাহও ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে, ফলে ঘাটতি কমে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে।

পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে ভোলা-বরিশাল ও মহেশখালী থেকে একটি সমান্তরাল লাইন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রকল্পের কোনো কার্যক্রম শুরু করেনি। ২০৩১-৩৫ সালের মধ্যে গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানো হলেও সরবরাহ তেমন বৃদ্ধি পায়নি, ঘাটতি ৫৫০-৫৭৫ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে থাকবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কারণে অতিরিক্ত গ্যাসের চাহিদা তৈরি হয়েছে। মেঘনাঘাটে চারটি ৪৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং খুলনায় একটি ৮০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র চালু হয়েছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প খাতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা বলেন, ‘চাহিদা এবং সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিকট ভবিষ্যতে সংকট কাটানো সম্ভব নয়।’ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘বিদেশি কোম্পানি ভোলায় কাজ করায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান পিছিয়ে গেছে। বর্তমান সরকারও জ্বালানি খাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি ও উচ্চ খরচ শেষে সেই দায় সাধারণ জনগণের ঘাড়েই পড়বে।’

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর