প্রবাসীদের মোবাইল ফোন আনা ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন এবং গুজব প্রচারকারীদের বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেন।
তিনি জানান, বিদেশ থেকে মোবাইল ফোন আনার নিয়মে সরকার কোনো নতুন বোঝা চাপায়নি। বরং আগের তুলনায় প্রবাসীদের সুবিধাই বাড়ানো হয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে প্রবাসীরা নিজের ব্যবহৃত মোবাইল সেটের সঙ্গে মাত্র একটি নতুন ফোন আনতে পারতেন। তবে বর্তমান সরকার সেই সুবিধা বাড়িয়ে এখন দুইটি নতুন সেট আনার অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ এখন প্রবাসীরা নিজের ব্যবহৃত সেটসহ সর্বোচ্চ দুইটি নতুন ফোন দেশে আনতে পারবেন। যদি কেউ দুইটির বেশি ফোন আনতে চান, তাহলে শুধু অতিরিক্ত ফোনের জন্য কর (ট্যাক্স) দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এনবিআরের ব্যাগেজ রুল পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য এই নতুন সুবিধা কার্যকর করা হচ্ছে। অবশ্য এই সুবিধা কেবল বিএমইটি (প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়) থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে যাওয়া প্রবাসীদের জন্য প্রযোজ্য; অন্যদের জন্য আগের নিয়মই বহাল থাকবে।
ফোন রেজিস্ট্রেশন ইস্যুতেও গুজব ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে জানান, প্রবাসীদের জন্য আলাদা কোনো নতুন আইন বা বিধিনিষেধ জারি করা হয়নি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, দেশের সব নাগরিকের ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ নিয়ম কার্যকর হচ্ছে—১৬ ডিসেম্বর থেকে নতুন কোনো মোবাইল সেট ব্যবহার শুরু করলে সেটি ৬০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অপহরণ, চাঁদাবাজি, হুমকি, জুয়া এবং অন্যান্য অপরাধে অবৈধ মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা ঠেকাতেই এই আইন কার্যকর করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এই আইন কাউকে হয়রানি করার জন্য নয়, বরং সুরক্ষার জন্যই করা হয়েছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিমূলক তথ্যকে ‘গুজব’ ও ‘গিবত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেকেই ভুলভাবে প্রচার করছে যে প্রবাসীরা দেশে মাত্র ৬০ দিন থাকতে পারবেন—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য। বাস্তবে এ ধরনের কোনো নিয়ম বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়নি। তিনি অনলাইনভিত্তিক এসব মিথ্যাচার প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ড. আসিফ নজরুল তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রবাসীদের বিভ্রান্ত করা একটি গুরুতর অপরাধ এবং নৈতিকভাবে এটি ইসলামের দৃষ্টিতেও বড় পাপ। তাই কে কী বলছে—তা যাচাই করে তথ্য গ্রহণ করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হলো প্রবাসীদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখা। মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজ ও সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা হয়রানি তৈরি না হয়।
তার আহ্বান—প্রবাসীরা যেন যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য গ্রহণ না করেন এবং গুজবকারীদের থেকে দূরে থাকেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের সহজতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আকাশজমিন / আরআর