ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা

চার দিন আগে কাজে যোগ, চতুর্থ দিনেই মা-মেয়েকে হত্যা!

গোসল করে স্কুলড্রেস পরে পালাল গৃহকর্মী


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:০২ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ নম্বর ভবনের সপ্তম তলার ৭/বি ফ্ল্যাটে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে মা-মেয়েকে হত্যার পর বাথরুমে গোসল করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী আয়েশা (২৩)। নিহতরা হলেন মালাইলা আফরোজ (৪৮) এবং তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ (১৫), যিনি মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতে, মাত্র চার দিন আগে দারোয়ান মালেকের মাধ্যমে গৃহকর্মী আয়েশাকে বাসায় আনা হয় এবং সে নিজের নাম আয়েশা বলে পরিচয় দেয়।

সকালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম সকাল ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হন। ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরে লিফটে উঠে সাত তলায় যান আয়েশা। এরপর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে, কাঁধে স্কুলব্যাগ নিয়ে মুখে মাস্ক লাগিয়ে নির্ভিকভাবে ভবন থেকে বের হয়ে যায় সে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান নাফিসার বাবা। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়।

আজিজুল ইসলাম জানান, তাদের বাসায় একজন কাজের মহিলা প্রয়োজন ছিল। চার দিন আগে বোরকা পরিহিত একটি মেয়ে কাজের সন্ধানে এলে দারোয়ান মালেক তাকে তাদের বাসায় পাঠায়। তার স্ত্রী ওই মেয়ের সঙ্গে কথা বলে কাজে রেখে দেন। আয়েশা তাদের জানায় তার গ্রামের বাড়ি রংপুর, বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন এবং সে জেনেভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকে। তার শরীরেও পুরোনো পোড়ার দাগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

ঘটনার পর ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ ও তছনছ অবস্থায় আলমারি ও জিনিসপত্র। পুলিশের ধারণা, হত্যার পর নাফিসা হয়তো রক্তাক্ত অবস্থায় সিকিউরিটি গার্ডকে ফোন দিতে দৌড়ে ইন্টারকমে পৌঁছাতে চেয়েছিল; তবে ইন্টারকমের লাইন খোলা পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের পর আয়েশা ঠান্ডা মাথায় বাথরুমে গিয়ে নিজের শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে, নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে এবং স্কুলব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, বাসার বাথরুম থেকে দুটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো দিয়েই মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাসার ভেতর ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে; দেওয়াল, মেঝে এবং আসবাবপত্রে রক্তের দাগ রয়েছে। আলমারি ও ব্যাগ তছনছ থাকায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কিছু মালামাল খোয়া যেতে পারে।

ঘটনার পর দারোয়ান মালেককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীর কার্যক্রম যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে এবং হত্যাকারী বাথরুমে ফ্রেশ হয়েছে—এমন আলামতও পাওয়া গেছে।” তিনি আরও বলেন, “হত্যার আগে-পরে গৃহকর্মীর উপস্থিতি বিশ্লেষণ করে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।”

ময়নাতদন্তের জন্য দুই লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, সিসিটিভির দৃশ্য অনুযায়ী আপাতত একজনকেই দেখা গেলেও আশপাশে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর