রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৪৫৫ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি হওয়া ৪৫৫ জন রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৫৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৫৫ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৪৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩২ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৪৮ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬ জন ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ৪৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৬ হাজার ২৩২ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৮ হাজার ২৮৪ জন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৯৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আক্রান্তের হার তুলনামূলক বেশি। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছেন, তবে মৃত্যুর হার কমে আসা সত্ত্বেও উদ্বেগটি পুরোপুরি কাটেনি।
ডেঙ্গুর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বড় শহরগুলোর পাশাপাশি বিভাগীয় শহর ও জেলা সদর হাসপাতালগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ঘরের ভেতর ও আশেপাশে তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন রোগী এবং সেই বছর মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় প্রাণ হারান এক হাজার ৭০৫ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। চলতি বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ডেঙ্গু শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং আক্রান্ত রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতনতা বজায় রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর