বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ২০২৪ সালে সারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার সময় তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রথম প্রশ্ন ওঠে। পরে লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় তাঁর অ্যাকশন ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) তাঁকে নিজেদের সব প্রতিযোগিতায় বোলিং নিষিদ্ধ করে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সাকিবের বোলিং নিষিদ্ধ হয়। তবে তিনি তখন ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার সুযোগ পান।
সম্প্রতি ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’ নামের একটি ইউটিউব পডকাস্টে সাকিব বিস্ময়কর তথ্য জানিয়ে বলেন—অবৈধ বোলিং অ্যাকশনে তিনি “কিছুটা ইচ্ছা করেই” বোলিং করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা হাশিম আমলা এই পডকাস্টটি সঞ্চালনা করেন।
সাকিব বলেন, “একটা ম্যাচে আমাকে ৭০ ওভারের বেশি বোলিং করতে হয়েছিল। টেস্ট ক্যারিয়ারে আমার কখনো এত ওভার বোলিং করা হয়নি। টনটনে সমারসেটের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচ খেলছিলাম, আর আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম। তাই কিছুটা ইচ্ছা করেই অ্যাকশনটা বদলে ফেলেছিলাম।”
সমারসেটের বিপক্ষে তিনি দুই ইনিংসে ৬৩.২ ওভার বোলিং করেছিলেন—৩৩.৫ ওভার ও ২৯.৩ ওভার। সাকিব জানান, পাকিস্তানে পরপর দুটি টেস্ট খেলার পরে তাঁকে ইংল্যান্ডে গিয়ে সারের হয়ে চার দিনের ম্যাচ খেলতে হয়। তাঁর দাবি, “আম্পায়ার আমাকে আগে সতর্ক করতে পারতেন, কিন্তু নিয়ম তাদের পক্ষেই। তাই অভিযোগ করিনি।”
পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর সাকিব অ্যাকশনের ভিডিও দেখে বুঝতে পারেন কোন জায়গায় ভুল হয়েছে। এরপর তিনি আবার সারেতে ফিরে অনুশীলন করেন। তাঁর ভাষায়, “দুটি সেশন অনুশীলনেই সব ঠিক হয়ে গেল। তখন মনে হলো, ‘আরে, এটা তো খুব সহজ!’”
লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইবার পরীক্ষা দেওয়ার মাঝে সাকিব চেন্নাইয়ে অ্যাকশন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। সেই সময়ে বিসিবির নির্বাচকেরা তাঁকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বোর্ড জানায়—ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিব ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে পারবেন।
এ বছর মার্চে দ্বিতীয়বার লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় কৃতকার্য হন তিনি এবং অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হন।
বর্তমানে সাকিব আরব আমিরাত ভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি লিগে এমআই এমিরেটসের হয়ে খেলছেন। শারজা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক ম্যাচে এমআই এমিরেটস ৪ রানে জয় পায়। ম্যাচটিতে সাকিব ১২ বলে ১৬ রান করেন, তবে কৌশলগত সিদ্ধান্তে তাঁকে রিটায়ার্ড আউট করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে রিটায়ার্ড আউট হওয়ার ঘটনা ঘটান—যেখানে প্রথম ছিলেন সানজামুল ইসলাম।
সাকিবের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক, তাঁর স্বীকারোক্তি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বোলিংয়ে ফিরে আসা—সব মিলিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ দলের এই তারকা ক্রিকেটার।
আকাশজমিন / আরআর