ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

১ লাখ নতুন ভ্যাট নিবন্ধনের লক্ষ্য এনবিআরের


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৪৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী ১০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর দেশব্যাপী বিশেষ ভ্যাট নিবন্ধন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে। এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ১ লাখ নতুন ভ্যাট নিবন্ধন প্রদান করা। বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৪ হাজার।

প্রতি বছরের ন্যায় আগামী ১০ ডিসেম্বর ‘ভ্যাট দিবস’ পালন করবে এনবিআর। এর সঙ্গে সংযুক্ত করে ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘ভ্যাট সপ্তাহ’ আয়োজন করা হবে। এবারের ভ্যাট দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘সময়মত নিবন্ধন নিব, সঠিকভাবে ভ্যাট দিব’। এর মাধ্যমে করদাতাদের সচেতন করা এবং করফাঁকি কমানো এনবিআরের মূল লক্ষ্য।

বিগত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আদায়ের ৩৮ শতাংশ ভ্যাট থেকে আদায় হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভ্যাট আদায় বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং ডিজিটালাইজড করতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে অনিবন্ধিত ব্যবসা, পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের অভাব, রেয়াত-শৃঙ্খল কার্যকর না হওয়া, অতিরিক্ত অব্যাহতি, ম্যানুয়াল অডিট ব্যবস্থা, ই-কমার্স ও উদীয়মান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে ভ্যাট সংগ্রহে অসুবিধা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এনবিআর ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন নিবন্ধন, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, ই-সহগ, অনলাইন পেমেন্ট, ই-রিফান্ড, ই-অডিট এবং ভ্যাট স্মার্ট চালান। এছাড়া, ভ্যাট ফাঁকি কমাতে ‘রিস্ক-বেসড’ অডিট সিস্টেমও কার্যকর করা হয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, করদাতাদের স্বেচ্ছায় কর প্রদান নিশ্চিত করা এবং কর ফাঁকি কমানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে করদাতাদের নিবন্ধন ও ভ্যাট প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। ফলে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আধুনিকীকরণ ত্বরান্বিত হবে।

ভ্যাট নিবন্ধন ক্যাম্পেইন সফল হলে ব্যবসায়ীরা নিয়মিতভাবে ভ্যাট প্রদান নিশ্চিত করতে পারবে। এটি শুধু সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করবে না, বরং করদাতাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও সঠিক ব্যবসায়িক প্র্যাকটিস নিশ্চিত করবে। এনবিআর আশা করছে, দেশের ১৬টি জেলার ব্যবসায়ীরা এই ক্যাম্পেইনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং নতুন ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।

ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে করদাতাদের জন্য সুবিধা ও সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা অনলাইনে নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল ও পেমেন্টের জন্য সহজ প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে পারবেন। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভ্যাট সপ্তাহ এবং বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

সর্বশেষে, এনবিআর ভ্যাট নিবন্ধন ও সঠিক ভ্যাট প্রদানের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর