অনলাইন রিপোর্টার
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তফশিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) তিনি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী তাদের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচন প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আমরা তফশিল ঘোষণার সময় নির্ধারণ করব। সবকিছু অনুকূলে থাকলে এই সপ্তাহেই তফশিল দেওয়া সম্ভব।”
এর আগে তিনি নির্বাচন কমিশন থেকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসেন। সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী তাকে স্বাগত জানান। দেশের জাতীয় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ একটি প্রচলিত রেওয়াজ। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতেও তফশিল ঘোষণার আগে সিইসিরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এবারও সেই রেওয়াজ অনুসরণ করা হলো।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গত ৭ ডিসেম্বর জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তফশিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশন বর্তমানে ভোট কেন্দ্র চূড়ান্ত করা, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনি লজিস্টিক প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়সহ বিভিন্ন কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
নির্বাচনি প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে সিইসি বলেন, “আমরা মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে যাচ্ছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সব সংস্থা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
তফশিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই, প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দসহ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে নির্বাচনি আচরণবিধি কার্যকর হবে। সিইসি জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে পর্যবেক্ষক দল এবং মনিটরিং সেল সক্রিয় থাকবে।
তিনি বলেন, “স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য। ভোটের পরিবেশকে অবাধ রাখতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোটাররা যাতে নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন—সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
এছাড়া সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে এবং অনেকেই ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক উন্নয়নে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতাকে আমরা গুরুত্ব দিই। তবে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তার কাজ করবে।”
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানান আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, তফশিল ঘোষণার সময়সূচি চূড়ান্ত করার জন্যই এ বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বৈঠক শেষে সিইসির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তফশিল ঘোষণার প্রস্তুতি এখন কার্যত সম্পন্ন।
দেশবাসীর অপেক্ষার প্রহরও শেষের দিকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গন আরও সরব হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশজমিন / আরআর