ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

অস্ট্রেলিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে উদ্যোগ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৪৮ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

অস্ট্রেলিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিগত সরকারের সময়ে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য রয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে এবং এ উদ্দেশ্যে এশিয়া/প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি)-এর সদস্য দেশ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সচিব পর্যায়ের ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) অনুষ্ঠিত হবে, যাতে ঢাকা এবং ক্যানবেরা—উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়টিকে আলোচনার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএফআইইউ-এর কাছে তথ্য আছে—বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অস্ট্রেলিয়ায় গেছে। এ কারণে ঢাকার পক্ষ থেকে সরাসরি অনুরোধ জানানো হবে যেন অস্ট্রেলিয়া এই অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সক্রিয় সহযোগিতা করে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এফওসি বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিস্তৃত পরিধির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনা হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, আর অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে থাকবেন প্রথম সহকারী সচিব সারাহ স্টোরি। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, কৃষি, ব্লু-ইকোনোমি, জ্বালানি, আইসিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, অভিবাসন, ভিসা সহজীকরণ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার ইস্যু তালিকায় রয়েছে।

মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, কাউন্টার টেরোরিজম, ইন্দো-প্যাসিফিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ প্ল্যান সম্পর্কেও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষভাবে অবৈধ অভিবাসন রোধে কার্যকর স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চলমান রাখায় বাংলাদেশ গুরুত্ব দেবে। মাইনিং সেক্টরে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণ, টিভিইটি সহযোগিতা বাড়ানো, অস্ট্রেলিয়ার টিএএফই প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে কার্যক্রম জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বৃদ্ধি—এসব বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

অভিবাসন প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে। তাই ঢাকার পক্ষ থেকে নিরাপদ অভিবাসন, ভিসা সহজীকরণ এবং বৈধ পথে দক্ষ কর্মী প্রেরণ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় বড় জায়গা পাবে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল কমে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় (জেআরপি) তহবিল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। বাংলাদেশও অস্ট্রেলিয়ার কাছে মানবিক সহায়তা, রোহিঙ্গা শিবিরে উন্নয়ন কার্যক্রম এবং তহবিল বৃদ্ধির অনুরোধ করবে।

এ ছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, বিদেশ সফর বিনিময় এবং উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলোও আলোচনায় থাকতে পারে। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিডনি সফরটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না। এবার দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন স্তরে উন্নীত করতে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মানবাধিকার, নিরাপদ অভিবাসন, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা—সব মিলিয়ে এফওসি বৈঠকটিকে ঢাকা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর