রাজধানীর লালবাগের শহীদ নগর ২ নম্বর গেট এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হোসেন চুড়ির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলের দিকে শহীদ নগর ২ নম্বর গেট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে হোসেনের ওপর হামলা চালায়। হামলার পর হামলাকারীরা দ্রুত সটকে পড়ে। পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহত হোসেন শহীদ নগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় এক চুড়ি কারখানায় কাজ করতেন। সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা জানান, কয়েক দিন ধরে তার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই পূর্ব বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় হোসেনের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তার বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাতের গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তারা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই হোসেনের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর লালবাগ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে। পুলিশ জানায়, ঘটনাটি পূর্ব শত্রুতার জেরেই ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
লালবাগ থানার এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। হামলার সময় উপস্থিত কিছু মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হোসেনের পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে, যাতে বিরোধের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা যায়। তিনি আরও বলেন, “হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে।”
নিহত হোসেনের পরিবার হাসপাতালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার মা বলেন, হোসেন প্রতিদিনের মতোই কাজে গিয়েছিল। বিকেলে ঘরে ফেরার কথা থাকলেও সেই পথে আর ফিরতে পারলো না। পরিবারের এক আত্মীয় জানান, হোসেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন।
এদিকে, এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন। তারা জানান, শহীদ নগর এলাকায় সম্প্রতি কিশোর গ্যাং ও স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীর উৎপাত বেড়ে গেছে। তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধে পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান স্থানীয়রা।
পুলিশ বলেছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। হোসেনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বুধবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর