ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

পল্টনে সিআইডির ট্রেনিং সেন্টারে এসআইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ


পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) আফতাব উদ্দিন রিগান

  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:২০ পিএম

রাজধানীর পল্টনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালিত ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে (ডিটিএস) ঝুলন্ত অবস্থায় আফতাব উদ্দিন রিগান নামে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল সিকিউরিটি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীরা হতবাক হয়ে পড়েছেন।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে সিআইডির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডরমেটরিতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হাসান। তিনি জানান, সকালে তারা খবর পান যে ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলের ডরমেটরির একটি কক্ষে একজন এসআই ঝুলন্ত অবস্থায় আছেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায় এবং দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রাতের কোনো একসময় তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এসআই শামীম হাসান আরও জানান, আফতাব উদ্দিন রিগান ‘৩৫তম আউটসাইড ক্যাডেট-এসআই’ হিসেবে ট্রেনিং শেষে ২০১৭ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি দায়িত্বশীল, শান্ত স্বভাবের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়। প্রশিক্ষণে অংশ নিতে তিনি সিআইডির ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে অবস্থান করছিলেন।

সহকর্মীরা জানান, ট্রেনিং স্কুলে তার নিয়মিত উপস্থিতি ছিল এবং আচরণেও কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে না। তবে ব্যক্তিগত কোনো মানসিক চাপ ছিল কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের একাধিক বিভাগ ঘটনার বিশদ তদন্ত করছে। ডিটিএসের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। উদ্ধারকালে দরজা ভাঙা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তাই ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও অন্য কোনো কারণ আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ট্রেনিং সেন্টারে শোকের ছায়া নেমে আসে। তরুণ একজন কর্মকর্তা এভাবে প্রাণ হারানোয় সহকর্মীরা গভীর ব্যথা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, পুলিশ সদস্যদের মানসিক চাপ ও কর্মপরিবেশের দিকটি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত প্রতিবেদন মিলিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর