আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আশপাশে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়। ভবনের চারপাশসহ প্রবেশমুখে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। একই সঙ্গে কঠোরভাবে তল্লাশি, ব্যারিকেড স্থাপন এবং চলাচল সীমিত করে রাখা হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সেই ভাষণেই ঘোষণা করা হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের পূর্ণাঙ্গ তফসিল। নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ, মনোনয়নপত্র উত্তোলন, দাখিল ও প্রত্যাহারের সময়সূচি, প্রার্থীদের আচরণবিধি, ভোটারের জন্য নির্দেশনা—সবকিছুই থাকবে এই তফসিল ঘোষণায়।
তফসিল ঘোষণার আগের দিনও ইসি ভবনের সামনে বাড়তি নিরাপত্তা ছিল। তবে বৃহস্পতিবার তা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছেন এবং চারপাশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ব্যস্ততম আগারগাঁও এলাকায় যানবাহনের গতিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানান, নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনা করে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইসি ভবনে প্রবেশ করতে হলে তল্লাশি পেরিয়ে যেতে হচ্ছে। সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, দর্শনার্থী—সবার ক্ষেত্রেই কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে।
এদিকে তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটাররা। কোন তারিখে ভোট হবে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় কখন, কোন ধাপে ভোটগ্রহণ হতে পারে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজকের ঘোষণায়। রাজনৈতিক দলগুলোও নজর রাখছে এই সময়সূচির দিকে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের আমেজ শুরু হবে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন ও গণভোট উভয় ক্ষেত্রেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন ভবনকে ঘিরে বাড়তি টহল, নিরাপত্তা চৌকি, ব্যারিকেড এবং নজরদারি ক্যামেরা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
এদিকে আগারগাঁও এলাকায় আজ দুপুর থেকেই মানুষের ভিড় কিছুটা কম। সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। অনেকেই দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদেরও ইসি ভবনে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা শহরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সরকারি দপ্তর, কৌশলগত স্থানে পুলিশি টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে। ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি, উপকরণ পরিবহন—সবই ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে। দেশের ইতিহাসে আরেকটি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি।
আকাশজমিন / আরআর