প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি। মাঝেমধ্যে কিছু খুনখারাবি হলেও সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। নির্বাচনকালীন সময়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। সম্প্রতি শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনাকে তিনি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।
সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সিইসি এসব মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণ ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করা।
সিইসি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি কোথায়? মাঝে মাঝে দু-একটা খুনখারাবি হয়। এটি নতুন কিছু নয়, পূর্বেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আগে কি আহসানউল্লাহ মাস্টার কিংবা সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া খুন হননি? নির্বাচনকালে এমন ঘটনা হয়েই থাকে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বরং উন্নত হয়েছে।’
তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করে বলেন, ‘সেই সময় থানাগুলো কার্যকর ছিল না, পুলিশও ঠিকমতো কাজ করত না। এখন আইনশৃঙ্খলা অনেক উন্নত হয়েছে। আমরা শান্তিতে চলাফেরা করতে পারছি, রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে পারছি, শান্তিতে ঘুমাতে পারছি।’
নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আমাদের কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন হবে। সকলকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
তিনি জানান, ‘গতকালই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, নির্বাচন সঠিক সময়ে এবং সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।’
সিইসি বলেন, ‘এই নির্বাচন ঐতিহাসিক কারণ, প্রথমবারের মতো ডাকযোগে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ভোট গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত সবাই এই ভোটে অংশ নিতে পারবেন। কারাবন্দি ও সরকারি কর্মচারীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একসঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সাহসিকতার সঙ্গে এই উদ্যোগ নিয়েছি। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ হলে সফলতা নিশ্চিত। অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দিতে নির্বাচন কমিশন একা সফল হতে পারে না, সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
আকাশজমিন / আরআর