মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, বীর উত্তম, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এ কে খন্দকার ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খন্দকার আব্দুল লতিফ ব্রিটিশ আমলে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং মাতা আরেফা খাতুন ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিণী। তিনি চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয়। পিতার চাকুরির সুবাদে তার প্রাথমিক শিক্ষা বগুড়া শহরে শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময় তিনি মালদা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।
১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ) থেকে কমিশন লাভ করেন পাইলট অফিসার পদে। ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ফাইটার পাইলট হিসেবে কাজ করেন এবং পরে ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এয়ার ফোর্স একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর স্কুলে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ফ্লাইট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরে জেট ফাইটার কনভারশন স্কোয়াড্রনে তিনি ফ্লাইট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৬০ সাল পর্যন্ত। ১৯৬১ সাল পর্যন্ত স্কোয়াড্রন কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন পিএএফ একাডেমিতে। জেট ফাইটার কনভারশন স্কোয়াড্রনে স্কোয়াড্রন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত। ট্রেনিং উইং-এর অফিসার কমান্ডিং হিসেবে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের আগ পর্যন্ত পিএএফ প্ল্যানিং বোর্ডের প্রেসিডেন্ট এবং পরবর্তীতে ঢাকায় সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এ কে খন্দকার উইং কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েই তিনি বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হন। ২১ নভেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি গ্রুপ ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ও জেনারেল এম এ জি. ওসমানীর ব্যক্তিগত ডেপুটি ইন চার্জ হিসেবে নিযুক্ত হন। তার নেতৃত্ব ও অবদানের কারণে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এ কে খন্দকার বাংলাদেশের বিমান বাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয়। তার সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব এবং দেশপ্রেমকে পরবর্তী প্রজন্ম অনুসরণ করবে। এছাড়া তার মৃত্যুতে সামরিক, রাজনৈতিক এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া নেমেছে। তার অবদান এবং সাহসিকতা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আকাশজমিন / আরআর