ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

পাঠ্যবইয়ে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের তুলনা


পাঠ্যবইয়ে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের তুলনা

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৯:০২ পিএম

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের তুলনা করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ের ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ শিরোনামের গদ্যে এই তুলনা তুলে ধরা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রণীত পাঠ্যবই চালু হয় ২০১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে। ওই শিক্ষাক্রমের শেষ দিকের শিক্ষাবর্ষ হওয়ায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইগুলো পরিমার্জন করা হয়েছে। এই পরিমার্জিত পাঠ্যবইতেই ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে ঊনসত্তর এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে একই ধারায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পথ সুগম হয় এবং পরবর্তীতে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় না নিয়ে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা সঠিক হয়নি বলে তারা মনে করছেন।

পরিমার্জিত পাঠ্যবইয়ে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে মূলত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে ঊনসত্তর এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের তুলনায় জুলাই আন্দোলনকে আরও বড় পরিসরে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বর্ণনায় আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নাম পাঠ্যবইয়ে অনুপস্থিত। একইভাবে এই দুই দলের প্রধান দুই নেতা শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার নামও পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ করা হয়নি। তিন জোটের কথা বলা হলেও জোটগুলোর নাম স্পষ্ট করা হয়নি। বিপরীতে জুলাই আন্দোলনের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে এর পরিসর তুলনামূলকভাবে বাড়ানো হয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ের ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ শিরোনামের গদ্যে লেখা হয়েছে, ‘দুনিয়াজুড়ে সব কালে, নানা দেশে আমরা গণঅভ্যুত্থান ঘটতে দেখেছি। বাংলাদেশের নিকট-ইতিহাসেও এ রকম তিনটি বড় গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। প্রথমটি হয়েছিল ১৯৬৯ সালে, যা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। দ্বিতীয়টি ১৯৯০ সালে, যাকে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান বলা হয়, আর তৃতীয়টি হয়েছে একেবারে সম্প্রতি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। অনেকেই একে জুলাই অভ্যুত্থান বা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান নামে অভিহিত করেছেন।’

এখানে ১৯৬৯ ও ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করে আরও বলা হয়, ‘আগের দুই অভ্যুত্থানের সঙ্গে এবারের অভ্যুত্থানের একটা বড় পার্থক্য হলো, আগের দুবার শিক্ষার্থীরা প্রধান ভূমিকা রাখলেও আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে এরকম কোনও রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছিল না। আন্দোলন পরিচালনা করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ যুক্ত হয়।’

অপরদিকে নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের ‘আমাদের গৌরবগাথা’ শিরোনামের গদ্য পাঠে জুলাই আন্দোলনকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘জুলাই অভ্যুত্থান অভূতপূর্ব এক অভ্যুত্থান, যার পূর্বে নজির নেই। এই অভ্যুত্থান আমাদের জন্য এক অসাধারণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এটা কোনও দলের নেতৃত্বে হয়নি। কয়েকটি দলের জোটের মাধ্যমেও হয়নি।’ এই পাঠেও আন্দোলনকে কেবল ছাত্র-জনতার আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সপ্তম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘বাংলাদেশের গণআন্দোলন ও চব্বিশের জুলাই আন্দোলন’ শিরোনামের পাঠে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা টেনে বলা হয়, ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের দাবিতে বাংলাদেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অনেক মানুষ নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে। ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।’

অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গণঅভ্যুত্থান’ পাঠে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান তাৎপর্যপূর্ণ দুটি ঘটনা। গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার দাবিতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সফল প্রতিফলন হলো এ দুটি অভ্যুত্থান।’

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ পাঠে ‘স্বাধীন বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান’ অংশে জুলাই আন্দোলনের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট আলোচনায় লেখা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিছক কোনও সামাজিক-রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জীবনে নতুন নাগরিক চেতনার উন্মেষ।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলা বইয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের বইগুলোতেও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন নিয়ে লেখা, কবিতা এবং কার্টুন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরে জায়গা পেয়েছে।

পাঠ্যবই পরিমার্জন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পাঠ্যবই মুদ্রণের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। পরবর্তীতে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে এনসিটিবির প্রধান সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর পাঠ্যবই পরিমার্জন নিয়ে কথা বলতে চাননি।

তবে এনসিটিবির সূত্রে জানা গেছে, পাঠ্যবই পরিমার্জনে মোট ৫৭ জনের একটি এডিটরিয়াল প্যানেল কাজ করেছে। এই পরিমার্জনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি)।

পাঠ্যবই পরিমার্জনের সময় দায়িত্বে থাকা এনসিটিবির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরীর সঙ্গে কয়েক দিন ধরে ফোন ও মেসেজে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।.

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর