ঢাকায় গ্যাসের সংকটের মধ্যে মিরপুর রোডে অবস্থিত গ্যাসের একটি ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ভালভ ফেটে লিকেজ সৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীর একাংশে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ খুব কমে গেছে। দ্রুততম সময়ে ভালভ পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
আজ (শনিবার) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়, মেরামতের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের কয়েকটি ভালভ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে, যার কারণে ওই এলাকার গ্রাহকরা গ্যাসের স্বল্পচাপে ভোগান্তিতে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এর আগে, ঢাকা মহানগরীতে গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। নগরবাসী এ কারণে নানা ধরনের অসুবিধার মুখে পড়ছেন। আজকের নতুন লিকেজ আরও সমস্যা বাড়িয়েছে। তিতাস জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানিয়েছিল, ঢাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপের পেছনে মূল কারণ ছিল মালবাহী ট্রলারের আঘাতে আমিনবাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন। মেরামতের সময় পাইপে পানি প্রবেশ করায় ঢাকা শহরে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে রাজধানীতে গ্যাসের স্বল্পচাপ বেড়ে গেছে এবং নগরবাসীর ভোগান্তি আরও দীর্ঘ হয়েছে।
তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত ভালভ দ্রুত পরিবর্তন করা হচ্ছে। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ সংলগ্ন এলাকায় গ্রাহকদের স্বল্পচাপের কারণে দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব পড়তে পারে। কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছে।
রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে তিতাস ভবিষ্যতে আরও মনিটরিং বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। গ্যাসের স্বল্পচাপ দীর্ঘায়িত হলে শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। গ্যাস ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও সরবরাহ নিশ্চিত করা তিতাসের অগ্রাধিকার।
নগরবাসীর জন্য সাময়িক সমস্যার পাশাপাশি গ্যাসের নিরাপদ ও নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা তিতাস কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে ধরা হচ্ছে। তারা আশা করছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বল্পচাপ দূর করে রাজধানীর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।