ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নির্বাচনে ‘ডিপফেক’ ও ‘চিপফেক’-এর ভয়াবহতা বাড়ছে


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:১৫ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের আগেডিপফেকচিপফেক’-এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য এই ধরনের কৃত্রিম ভিডিও, অডিও ছবি ব্যবহারের কিছু উদাহরণ দেখা গেছে। বিশেষ করে গাইবান্ধা- আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ নাহিদ নিগারের একটি ভুয়া বাডিপফেকভিডিও নির্বাচনের দিন ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বলতে দেখা যায়, তিনি ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ভিডিওটি ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছিল।

জার্মান সংস্থা কনরাড অ্যাডেনয়ার ফাউন্ডেশন (কেএএস) ‘নির্বাচনে ডিপফেকের প্রভাবশিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই ঘটনা উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে নির্বাচনের সময় ডিপফেক ভিডিও ছড়ানো নতুন কোনো বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জাম্বিয়া ফ্রান্সসহ অনেক দেশে এমন ঘটনার উদাহরণ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য নিউ হ্যাম্পশায়ারে গত বছর জানুয়ারিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের (প্রাইমারি) ভোটের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের একটি ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ভোটারদের ভোট দিতে যেতে নিরুৎসাহিত করছেন।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জানুয়ারির এই ঘটনা ফ্যাক্টচেক করেছিলেন মিনহাজ আমান, যিনি বর্তমানে অ্যাকটিভেট রাইটস সংস্থার গবেষণাপ্রধান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে। ডিপফেক ভিডিও প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষতি, ভোটারদের বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক অপপ্রচার চালাতে ব্যবহৃত হয়।

২০২৪ সালের শুরুতে এআই এত উন্নত সহজলভ্য ছিল না। এখন এআই ব্যবহার করে বাস্তবসম্মত ভুয়া ভিডিও, অডিও ছবি তৈরি করা সম্ভব। এই ধরনের কন্টেন্টকে ডিপফেক বলা হয়। অন্যদিকেচিপফেকহলো কম ক্ষমতার সফটওয়্যার ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া কন্টেন্ট, যা সাধারণত কোনো ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা দেয়। যেমন কোনো সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজে দেওয়া ফটোকার্ড নকল করে ভুয়া বক্তব্য প্রচার করা।

ফ্যাক্টচেকার, বিশ্লেষক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে অপতথ্য ছড়ানোর জন্য ডিপফেক চিপফেকের মতো দশটি কৌশল বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে: সত্য ছবি বা ভিডিওর সঙ্গে বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন যুক্ত করা; সত্য বক্তব্যের অংশবিশেষ কেটে বা প্রসঙ্গ বদলে ভিন্ন অর্থ তৈরি করা; সম্পূর্ণ মনগড়া বক্তব্য বা উদ্ধৃতি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে চালিয়ে দেওয়া; পুরোনো ছবি, ভিডিও বা খবরকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা; ভুয়া পরিসংখ্যান ব্যবহার; ফটোকার্ড নিউজ পোর্টালের নকল তৈরি; একই তথ্য একাধিক পেজ অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দেওয়া; স্ক্রিনশট বা নথি জাল করা; মনগড়া সংখ্যা প্রচার এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা।

নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে রাজনৈতিক অপতথ্য ছড়ানোর মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। একাধিক রাজনৈতিক দলের অন্তত ১৩ নেতা-নেত্রী এর ভুক্তভোগী হয়েছেন। ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হিসেবে ভিডিও চিহ্নিত হয়েছে। মোট যাচাইয়ের ৬৬ শতাংশ ভিডিওভিত্তিক ছিল।

রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ,৪৪১টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫৬টি রাজনৈতিক অপতথ্য, ৬৫১টি ভিডিওভিত্তিক, ৫৫০টি তথ্যভিত্তিক এবং ২৪৫টি ছবিভিত্তিক। প্রকৃতির দিক থেকে সরাসরি মিথ্যা ছিল ,০৫১টি, বিকৃত তথ্য ২৫৩টি, বিভ্রান্তিকর তথ্য ১৩২টি, আংশিক মিথ্যা ৩টি এবং আংশিক সত্য ২টি।

ডিসমিসল্যাবের জানুয়ারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশি ৯টি ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা নির্বাচনসংক্রান্ত ৬৩টি মিথ্যা দাবি শনাক্ত খণ্ডন করেছে। আগের মাসে সংখ্যা ছিল ৫০টি, অর্থাৎ ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে মিথ্যা বিবৃতি উক্তি।

বিদেশে থেকে কিছু ব্যক্তি নিয়মিত বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে ফেসবুক, ইউটিউব অন্যান্য মাধ্যমে মিথ্যা ছড়ান। সাধারণভাবে দুই ধরনের মানুষ এতে জড়িত: এক শ্রেণি রাজনৈতিক বা আদর্শিকভাবে উৎসাহিত, অন্য শ্রেণি টাকার বিনিময়ে কাজ করে। ভুয়া পরিচয়ে খোলা ফেসবুক পেজ অ্যাকাউন্টের একাধিক বাহিনীবটবাহিনীনামে পরিচিত, যারা রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সূত্র বলছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনে না থাকলেও অনলাইনে অপতথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তারা টেলিগ্রামসহ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়াচ্ছেন।

সরকারও উদ্বিগ্ন। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ) নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিশেষ সেল গঠন করেছে। পুলিশ-সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারও ২৪ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেছেন, অপতথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই তা বিশ্বাস করে। রাজনৈতিক নেতারাও অনলাইনে ছড়ানো ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দিচ্ছেন। কিছু সংবাদমাধ্যমও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবরকে নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়াই প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, সাইবার আক্রমণ ডিপফেকের কারণে বিশ্বের অনেক দেশে নির্বাচন পেছানোর উদাহরণ আছে, বাংলাদেশেও ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ তেমন চোখে পড়ছে না।

আকাশজমিন / আরআর 

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর