ঢাকা টুডে ডেস্ক
বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। শীত মৌসুম এলেই এ মেগাসিটির বায়ুদূষণের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, আর চলতি শীতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ভয়াবহ মাত্রায় বাড়তে থাকা বায়ুদূষণে দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে ঢাকা শহর, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান শীর্ষে। তালিকায় ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ২৩৫, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। মাত্র একদিন আগেই, শনিবার ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৯৩, যা থেকে বোঝা যায় খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২৩০ স্কোর নিয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। এ ছাড়া, ২১৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হেনোয় এবং ২০১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে আছে চীনের চেংডু। বায়ুমানের এই স্কোর অনুযায়ী, এসব শহরের বাতাসও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তালিকার পরবর্তী অবস্থানগুলোতেও রয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি বড় শহর। ১৮৭ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি, ১৮৩ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে আছে মায়ানমারের ইয়াঙ্গুন এবং ১৮০ স্কোর নিয়ে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা। এ ছাড়া, ১৭৭ স্কোর নিয়ে অষ্টম অবস্থানে আছে মিশরের কায়রো, ১৭৬ স্কোর নিয়ে নবম অবস্থানে রয়েছে সেনেগালের ডাকার এবং ১৭৪ স্কোর নিয়ে দশম অবস্থানে আছে চীনের চংচিং। বায়ুমানের স্কোর অনুযায়ী, এসব শহরের বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ইটভাটা, পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, রাস্তার ধুলাবালি, নির্মাণকাজ এবং শিল্পকারখানার ধোঁয়া। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসের গতি ধীর হওয়ায় দূষিত কণাগুলো সহজে বাতাসে আটকে থাকে, ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
উল্লেখ্য, একিউআই বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তা ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। অন্যদিকে, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।
এই পর্যায়ে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্যদেরও দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান ও শারীরিক পরিশ্রম সীমিত রাখতে বলা হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন দূষিত বাতাসে বসবাস করলে শ্বাসযন্ত্র, হৃদ্রোগসহ নানা জটিল স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
আকাশজমিন / আরআর