অনলাইন রিপোর্টার
নগর
উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সেবা ও জনসচেতনতা
বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখায় আটটি ক্যাটাগরিতে আট
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘নাগরিক
পদক–২০২৫’ প্রদান করেছে ঢাকা উত্তর সিটি
করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রাজধানীর গুলশানে
ডিএনসিসির নগর ভবনে রোববার
আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে
সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, নগরের সার্বিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং নাগরিক সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই নাগরিক পদক প্রদান করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে পদক, সনদ, সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে
উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে
নাগরিক পদক পান আবদুর
রশিদ সোহাগ। তিনি পিউপিল স্কুল
বাস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের
মতো ব্যস্ত মহানগরে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও
সংগঠিত পরিবহনব্যবস্থা চালু করে তিনি
নগর ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর উদ্যোগ
বাস্তবায়ন করেছেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে
৪৫টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সাত
হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করছে। এর ফলে একদিকে
অভিভাবকদের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ কমেছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার হ্রাস পাওয়ায় নগরের সড়কে যানজটও উল্লেখযোগ্যভাবে
কমেছে।
ব্যক্তি
উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পেয়েছেন শ্রুতি
রানী দে। তিনি ব্যক্তিগত
উদ্যোগে সমাজ ও নগরের
কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে
যাচ্ছেন। নিজ এলাকায় নিয়মিত
বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা, সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি এবং প্লাস্টিক ব্যবহারে
সচেতনতা তৈরিতে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
পাশাপাশি তিনি স্থানীয় জনগণকে
সংগঠিত করে ১২টি বাল্যবিবাহ
বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন।
বর্তমানে শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের পুনরায় শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগে তিনি
সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
সোশ্যাল
মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণ ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পেয়েছে আপলিফট
বাংলাদেশ। গত পাঁচ বছর
ধরে প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়নভিত্তিক ও জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট
তৈরি করে আসছে। ঢাকা
উত্তর সিটির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ও
নগর পরিবর্তনের চিত্র দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরাই তাদের
কাজের মূল লক্ষ্য। ডিজিটাল
প্ল্যাটফর্মে নগর উন্নয়নের ইতিবাচক
দিকগুলো তুলে ধরে নাগরিকদের
মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রেখেছে।
পরিবেশবান্ধব
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পেয়েছে ভাষানটেক
স্কুল এন্ড কলেজ। ১৯৮০
সালে যাত্রা শুরু করা এই
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কেবল শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ
নয়; মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ সচেতনতা
বিকাশেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে
যাচ্ছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে
বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশ সংরক্ষণকে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার অংশ হিসেবে গড়ে
তুলেছে।
সামাজিক
সংগঠন ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পেয়েছে উত্তরা
পাবলিক লাইব্রেরি। জ্ঞানচর্চা, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক সংস্কৃতি
বিকাশে সংগঠনটি একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ
হিসেবে পরিচিত। এখানে নিয়মিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা,
জুলাই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ভাষা দিবস উপলক্ষে
রচনা প্রতিযোগিতা, বিজয় দিবসের আলোচনা
সভা ও পুরস্কার বিতরণসহ
বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
করা হয়, যা সমাজে
ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রাণী সুরক্ষা ও প্রাণী অধিকার রক্ষা ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পেয়েছে প ফাউন্ডেশন (পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফার ফাউন্ডেশন)। শহরের আহত ও বিপন্ন প্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাণী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি একটি মানবিক ও সহনশীল নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অ্যাডভোকেসি
ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পেয়েছেন হাওয়া
বেগম। তিনি নগরের প্রান্তিক
জনগোষ্ঠীর অধিকার, জীবনমান ও সামাজিক নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ
করে যাচ্ছেন। ২০০৭ সালের সিডরে
সবকিছু হারিয়ে ঢাকায় এসে কড়াইল বস্তিতে
বসবাস শুরু করেন তিনি।
নিজ জীবনের অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে পরিণত করে বস্তিবাসীর সমস্যা
ও দাবি তুলে ধরতে
অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে সক্রিয় হন। নগর কৃষি,
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ওয়াশ (WASH) কর্মসূচির
মাধ্যমে তিনি বস্তিবাসীর জীবনমান
উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
সর্বোচ্চ
করদাতা ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পেয়েছে বাংলাদেশ
পানি উন্নয়ন বোর্ড। নগর উন্নয়ন ও
নাগরিক সেবা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয়
রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ গত অর্থবছরে ৩
কোটি ৮৯ লক্ষ ৬৭
হাজার টাকা কর পরিশোধ
করায় প্রতিষ্ঠানটিকে এই সম্মাননা প্রদান
করা হয়।
পদক
প্রদান অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ বন
ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, লেখক ও বুদ্ধিজীবী
অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, স্থানীয় সরকার
বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ
জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটির
প্রশাসক মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর
সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
আকাশজমিন / আরআর