অনলাইন
রিপোর্টার
অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ছয়তলা বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জন হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই বাড়িতে আগুনের খবর আসে। ফায়ার সার্ভিসের সূত্র জানায়, প্রথম দিকে তিনজন নিহত হয়েছেন। পরে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ এবং একজন শিশু রয়েছেন। বাকিদের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, “দ্বিতীয় তলায় আগুন লেগেছিল। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ১৩ জনকে দ্রুত কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
ঢাকা জোন–৩ এর উপ সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় তলায় শুরু হওয়া আগুন তিনতলা পর্যন্ত পৌঁছে।”
সকালে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল ১০টার দিকে পুরোপুরি নিভে যায়। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় ঘরে প্রচুর আসবাবপত্র থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর মাত্র চার মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আধাঘণ্টার চেষ্টায় আগুন আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের ২০ জন সদস্য ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ধোঁয়া এবং জ্বালাপোড়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, তবে চিকিৎসা চলছে।
নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা আতঙ্কিত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুনের সময় অনেক মানুষ বাইরে বের হতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস দ্রুত অভিযান চালিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্র জানায়, আগুন লাগার কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা বেশি, তবে আরও বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের যৌথ তদন্ত চলছে।
উত্তরা থানার পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। নিহতদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা উদ্ধারকাজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন।
এ ঘটনার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় এলাকার পরিবেশে। প্রতিবেশীরা জানান, আগুন এবং ধোঁয়ার কারণে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢাকা। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে বের হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এখন পুরো এলাকা নিরাপদ।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন একসাথে কাজ করেছে। তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভবনটির মালিক এবং বাসিন্দারা আগুন লাগার আগে সতর্কীকরণ সংকেত পাননি। এই বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের তালহা বিন জসিম বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে হতাহত হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে বড় ভূমিকা রাখে ঘরের আসবাবপত্রের অতি পরিমাণ। এছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সার্কিটের নিরাপত্তা মান বজায় রাখার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং নিহতদের দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে মানসিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আধাঘণ্টার চেষ্টার পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দারা আতঙ্কিত। নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস নিয়মিত সমন্বয় করছে।