অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি সাততলা আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনটির দোতলায় অবস্থিত একটি রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বৈদ্যুতিক গোলযোগ অথবা গ্যাস লিকেজ—এই দুই কারণকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দোতলার রান্নাঘর থেকেই আগুনের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে অথবা গ্যাস লিকেজ থেকেও হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, তারা হলেন ফজলে রাব্বি (৩৭), হারেস (৫২) এবং তার ছেলে রাহাব (১৭)। এছাড়া হারেসের স্ত্রী ও রাহাবের মাও এই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। অপর একজন নিহতের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ওসি রফিক আহমেদ আরও জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অন্য দুইজনের মরদেহ উত্তরার আরেকটি হাসপাতালে রয়েছে। সর্বশেষ যে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, সেই মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় মোট কতজন আহত হয়েছেন, তা জানতে পুলিশের বিভিন্ন টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কে আগুন লাগার খবর পায় তারা। খবর পাওয়ার মাত্র চার মিনিটের মধ্যে, সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে উত্তর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ইউনিটগুলো সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের ভেতরে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ধোঁয়ার কারণে বের হতে না পেরে আটকা পড়েন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হলেও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার পর ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্যাস সংযোগ এবং বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আবাসিক ভবনগুলোতে নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
আকাশজমিন / আরআর