ভোটকে ঘিরে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। নির্বাচনী এলাকার কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের আশঙ্কা তুলে ধরে তিনি কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। তবে তার এই শঙ্কাকে সম্পূর্ণ অমূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব (সিনিয়র সচিব) শফিকুল আলম।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, তার কাছে এমন তথ্য এসেছে যে সরাইল উপজেলার কিছু কেন্দ্রে ভোটের আগের রাতেই সিল মেরে রাখার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, যদি কোথাও জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হয় কিংবা ব্যালটে আগেই সিল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে তা প্রতিহত করতে কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও তিনি কামনা করেন। তার ভাষায়, অতীতেও গণমাধ্যম যেভাবে সহযোগিতা করেছে, এবারও সেভাবে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। রুমিন ফারহানার মতে, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবার সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার আলীনগর গ্রামে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর কাছে একবার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান। নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার আশ্বাসও দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় রুমিন ফারহানা সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়নে গ্যাস সংযোগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। স্থানীয় উন্নয়ন ছাড়া এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, ভোট নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রকাশ করা শঙ্কা প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব (সিনিয়র সচিব) শফিকুল আলম। আজ শুক্রবার আখাউড়ায় শাহপীর কল্লা শহীদের মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই আশঙ্কা ভিত্তিহীন।
শফিকুল আলম বলেন, ‘রুমিন ফারহানার আশঙ্কা অমূলক। একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, ভোটগ্রহণ যাতে নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রেসসচিব আরও বলেন, নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশ্বাস দেন, কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করা হবে যে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হবে।
ভোটকে কেন্দ্র করে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচনী এলাকায় ভোটের দিন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।