ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

এলপিজি সংকট: দ্বিগুণ দামে সিলিন্ডারও মিলছে না


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৩৫ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর ১০ শতাংশের বেশি হারে দেশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেশি আমদানি প্রয়োজন। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে এলপিজি আমদানি বেড়েছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার টন। কিন্তু গত বছর আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ টনে। বছরের শেষ তিন মাসে আমদানির হার আরও কম থাকায় সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানায়, ২০২৩ সালে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন। ২০২৪ সালে এটি বেড়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে আমদানির পরিমাণ কমে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টনে নেমেছে। ফলে বছরের শেষে যেটুকু মজুত থাকা উচিত ছিল, তা বাজারে বিক্রি হয়ে গেছে এবং চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। দ্বিগুণ দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

বিইআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতি মাসে আমদানি কমার তথ্য সরকারের কাছে থাকলেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যারা নিয়মিত আমদানি করে, তাদের অনুমতি বাড়ানো হলে বর্তমান সংকট এড়ানো যেত। জ্বালানি বিভাগ ইতোমধ্যে এলপিজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ঋণপত্র (এলসি) খোলায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, বর্তমান সংকট সরবরাহজনিত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে গত নভেম্বরে ১৭০টি জাহাজে এলপিজি আসতে পারেনি, ডিসেম্বরে আরও ২৯টি জাহাজ বাধার মুখে পড়েছে। ইরান থেকে সরবরাহ বন্ধ, চীনের মতো বড় ক্রেতারাও বাজার থেকে কিনছে। তাই এলপিজি ক্রয় করা কঠিন হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক সরকারের অনুমোদনের ধীরগতি সমস্যার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এক বছর আগে এলপিজি আমদানি বাড়ানোর অনুমতি চাইলেও মন্ত্রণালয় তা দেয়নি। নতুন প্ল্যান্টের অনুমোদনও বাধার মুখে।

বাজারে সরবরাহ কম থাকায় সিলিন্ডারের দাম সাধারণের নাগালে নেই। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা তামান্না আখতার বলেন, কয়েক দোকান ঘুরে ১ হাজার ৩০৬ টাকার সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ২ হাজার ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে। চট্টগ্রামে যেখানে সিলিন্ডার পাওয়া যায়, সেখানে দাম বাড়তি। রাজশাহীতে সাধারণ ক্রেতারা বিকল্প হিসেবে কেরোসিন চুলা বা বিদ্যুৎ–চালিত চুলা ব্যবহার করছেন।

বিইআরসি জানায়, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে ৫২টি কোম্পানির। এর মধ্যে ৩২টির নিজস্ব সিলিন্ডার ভরাট প্ল্যান্ট আছে। ২৩টি কোম্পানি আমদানির সক্ষমতা রাখে। গত বছর ১৭টি কোম্পানি কোনো না কোনো মাসে আমদানি করেছে, শুধু ৮টি কোম্পানি প্রতি মাসে আমদানি করেছে। বছরের শেষ দিকে কেউ কেউ আমদানি বন্ধ রাখায় সংকট গভীর হয়েছে।

সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তবে বর্তমানে ক্রেতারা সিলিন্ডারের জন্য দীর্ঘ লাইন, বাড়তি দাম ও সীমিত সরবরাহের মুখোমুখি হচ্ছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর