ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পেনাল্টি নাটকে মিশরকে হারাল নাইজেরিয়া


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:০৯ পিএম

ক্রীড়া ডেস্ক

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে বারবার পেনাল্টি শুটআউটের হতাশা বয়ে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত সাফল্যের দেখা পেল নাইজেরিয়া। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আবারও টাইব্রেকারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল সুপার ঈগলদের। তবে এবার আর ভাগ্য সহায় হয়নি প্রতিপক্ষের। গোলশূন্য ড্রয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ গোলে জয় তুলে নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে নাইজেরিয়া।

ক্যাসাব্লাঙ্কায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মিশরের বড় দুই তারকা মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমৌশের পেনাল্টি ব্যর্থতাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। শুটআউটে মিশরের প্রথম দুই শটই নষ্ট হয়। নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক স্ট্যানলি নোয়াবালি অসাধারণ দক্ষতায় সালাহ ও মারমৌশের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন। এর বিপরীতে নাইজেরিয়ার হয়ে আকোর অ্যাডামস, মোসেস সাইমন ও অ্যালেক্স ইওবি সফলভাবে গোল করেন। শেষ পর্যন্ত বদলি খেলোয়াড় অ্যাডেমিলা লুকম্যানের পেনাল্টিই নিশ্চিত করে নাইজেরিয়ার জয়।

এই জয়ের মাধ্যমে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ইতিহাসে রেকর্ড নবমবারের মতো তৃতীয় স্থান অর্জন করল নাইজেরিয়া। সেমিফাইনালে মরক্কোর কাছে হারের পর হতাশা কাটিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল তারা সম্মানজনক এক সাফল্য দিয়ে। টুর্নামেন্টজুড়েই দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে দলটি, বিশেষ করে একাধিক বিতর্কিত মুহূর্ত ও পেনাল্টি চাপের মধ্যেও শেষ ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছে।

ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে দুদলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি কেউ। প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটে নাইজেরিয়ার হয়ে আকোর অ্যাডামস গোল করলেও ভিএআর পরীক্ষায় তা বাতিল হয়ে যায়। রিভিউতে দেখা যায়, পলের অনোয়াচু মিশরের ডিফেন্ডার হামদি ফাথিকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন। ফলে রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। এতে প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে নাইজেরিয়া। অ্যাডেমিলা লুকম্যানের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। মিশরও পাল্টা আক্রমণ চালালেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। নির্ধারিত সময়ের শেষে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

পেনাল্টি শুটআউটে নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক স্ট্যানলি নোয়াবালি হয়ে ওঠেন ম্যাচের নায়ক। গুরুত্বপূর্ণ দুই শট ঠেকিয়ে দিয়ে দলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে দেন তিনি। পুরো ম্যাচেই তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভরযোগ্য, যা নাইজেরিয়ার রক্ষণভাগকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি।

এই ব্রোঞ্জ জয়ের মধ্য দিয়ে নাইজেরিয়া সাম্প্রতিক পেনাল্টি হতাশার অধ্যায় কিছুটা হলেও ভুলতে পেরেছে। গত নভেম্বরে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পেনাল্টিতে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট হাতছাড়া করেছিল তারা। চলতি আফকনেও সেমিফাইনালে মরক্কোর কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হারের যন্ত্রণা ছিল তাজা। তবে মিশরের বিপক্ষে এই জয় প্রমাণ করেছে, চাপের মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য এখনও রয়েছে সুপার ঈগলদের।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর