ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

১ কোটি ৭০ লাখ টাকার লেনদেন

মনোনয়ন দিতে ঘুষ, রাঙ্গার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৪৪ পিএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার বিনিময়ে পৌনে দুই কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ পাওয়ায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব এবং সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. মশিউর রহমান রাঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই মামলায় কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক এমপি পনির উদ্দিন আহমেদকেও আসামি করা হচ্ছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কোনো ধরনের বৈধ ব্যবসায়িক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও রাঙ্গা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পনির উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি পনির উদ্দিন আহমেদ মেসার্স জলিল বিড়ি ফ্যাক্টরি এবং হক স্পেশাল (পরিবহন ব্যবসা) নামীয় প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী। তদন্তে দেখা গেছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম শাখায় পরিচালিত পনির উদ্দিন আহমেদের মালিকানাধীন হক স্পেশাল নামীয় হিসাব থেকে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর ইসলামী ব্যাংকের রংপুর শাখায় পরিচালিত মো. মশিউর রহমান রাঙ্গার হিসাবে ২০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

এ ছাড়া ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের কুড়িগ্রাম শাখা থেকে চার দফায় মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাঙ্গার নামে সংসদ ভবন শাখায় জমা দেওয়া হয়। এভাবে মোট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘুষ হিসেবে লেনদেন করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, এই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর, রূপান্তর ও লেনদেনের মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মো. মশিউর রহমান রাঙ্গা ও পনির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

একই সঙ্গে মো. মশিউর রহমান রাঙ্গার বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন সম্পদের তথ্য পাওয়ায় তা যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় তার নামে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ জারি করা হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

দুদক জানিয়েছে, সম্পদ বিবরণী যাচাই শেষে যদি অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে এ সংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিশন বলছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হবে না।

 আকাশজমিন / আরআর   


এ সম্পর্কিত আরো খবর