ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঢাকার বাড়িভাড়ায় নতুন নির্দেশিকা দিল ডিএনসিসি


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৮:২৯ পিএম

রাজধানী ঢাকার বাড়িভাড়া–সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না এবং বার্ষিক ভাড়ার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হতে পারবে না। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএনসিসির নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশিকার কথা জানান ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন–১৯৯১ এর আলোকে এই নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। নির্দেশিকায় ভাড়া বাড়ানোর সময়সীমা, ভাড়ার সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার অধিকার ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের বসবাস হলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে মোট বাড়ির সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ লাখের বেশি নয়। ফলে নগরীর একটি বড় অংশই ভাড়াটিয়া জনগোষ্ঠী। গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় নগরীর ওপর চাপ বাড়ছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে আবাসন খাতে।

তিনি জানান, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একটি শহরে মানুষের আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ আবাসনে ব্যয় হলে তা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ঢাকায় অনেক ক্ষেত্রেই মানুষকে আয়ের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়ায় ব্যয় করতে হচ্ছে। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন–১৯৯১ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা ও অস্পষ্টতা থাকায় এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এবং ভাড়া বাড়ানোর সময় হবে জুন–জুলাই মাস। দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর মানসম্মত বা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বাড়ির মালিককে অবশ্যই বাড়িটি বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালাকে জানাবেন এবং বাড়িওয়ালা দ্রুত সমাধান করবেন।

ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করবেন এবং বাড়িওয়ালা ভাড়ার লিখিত রসিদ দিতে বাধ্য থাকবেন। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় এক থেকে তিন মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না। আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ দুই মাসের নোটিশ দিয়ে ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠন করতে হবে এবং যেকোনো বিরোধ প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো যাবে।

ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে বিদ্যমান অনেক জটিলতা কমবে এবং নগরবাসী একটি সুষম ও ন্যায্য আবাসন ব্যবস্থার সুফল পাবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর