ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৯:৪২ পিএম

গণভবনে নির্মাণাধীন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে তিনি জাদুঘরে পৌঁছে পুরো স্থাপনাটি ঘুরে দেখেন এবং ইতিহাসভিত্তিক বিভিন্ন উপকরণ পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের প্রেক্ষাপট, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্র, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও গণআন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।


উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

এ ছাড়া গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, গুম থেকে ফেরত ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখসারীতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান এবং গবেষক ও দায়িত্বশীলরা আগতদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। জাদুঘরে অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সেই সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে।


পরিদর্শনের সময় প্রধান উপদেষ্টা ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

পরিদর্শন শেষে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে। এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না ভবিষ্যতে আর কোথাও এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। তবে জাতি যদি কখনো দিশেহারা হয়, এই জাদুঘর তাকে পথ দেখাবে।’


তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের এখানে এসে সময় কাটানো উচিত। শিক্ষার্থীদের দলবেঁধে এই জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। আয়নাঘরগুলোতে বসে যেন মানুষ বন্দিদের ওপর চালানো নৃশংসতা উপলব্ধি করতে পারে, সেই ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, অল্প সময়ে জাদুঘরের কাজ এ পর্যায়ে আসা একটি রেকর্ড। অনেকেই আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন। নির্বাচনের আগেই জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর