অনলাইন রিপোর্টার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করবেন দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮১টি নিবন্ধিত দেশি সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন প্রায় ৫০০ জন।
গত রোববার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে কূটনৈতিক মিশনগুলোর প্রধান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য জানান। পরে সন্ধ্যায় ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ব্রিফিংয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৯৯৪ জন, যার মধ্যে ২৫৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই প্রার্থীরা দেশের ২৮টি জেলায় ভোট প্রার্থনা করছেন।
ইসি জানান, দেশের সমস্ত ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষকরা দায়িত্ব পালন করবেন। দেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বড় হওয়ায় প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিত হবে। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোটারদের স্বচ্ছ ভোটাধিকারের পরিস্থিতি মনিটর করবেন।
নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে বলা হয়, ভোট গ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে। ভোটের সময় ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং সকল ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষকরা ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন।
এছাড়া, নির্বাচন কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভোটাররা নির্দিষ্ট সময়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পর্যবেক্ষকরা ভোটের সময় ভোটগ্রহণের প্রতিটি ধাপ মনিটর করবেন, যাতে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণা না ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বেশি থাকার কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও স্বচ্ছতার দিক থেকে গুরুত্ব বৃদ্ধি করবে। এতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা বাড়বে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই সকল ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা কর্মীদের কার্যক্রমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও অবাধ করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং সুষ্ঠু হবে।
আকাশজমিন / আরআর