ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ইউরোপার বরফের তলদেশে প্রাণের সম্ভাবনা


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:২৪ পিএম

বৃহস্পতির বরফঢাকা উপগ্রহ ইউরোপার তলদেশে লুকিয়ে থাকা বিশাল মহাসমুদ্রে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষাকারী রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে বলে ধারণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপার ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার কারণে উপরের বরফ স্তর থেকে রাসায়নিক উপাদানগুলো ধীরে ধীরে নিচের মহাসাগরে পৌঁছাতে পারে।

বৃহস্পতির কয়েক ডজন উপগ্রহের মধ্যে ইউরোপা সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এর বরফের নিচে একটি সুবিশাল লবণাক্ত মহাসাগর রয়েছে, যা পৃথিবীর সব মহাসাগরের পানির চেয়ে দ্বিগুণ। সৌরজগতে প্রাণের অনুসন্ধানে এটি অন্যতম সম্ভাবনাময় স্থান। তবে পৃথিবীর মহাসাগরের তুলনায় ইউরোপার মহাসাগর সূর্যালোক ও অক্সিজেন থেকে বিচ্ছিন্ন। ফলে এখানে খাদ্য বা শক্তি উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক শক্তি নির্ভর করতে হয়। বড় প্রশ্ন ছিল—বৃহস্পতির তীব্র বিকিরণে উপরের স্তরে তৈরি অক্সিডেন্ট কি পুরু বরফ ভেদ করে নিচের মহাসাগরে পৌঁছাতে পারে?

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখিয়েছেন, ইউরোপার বরফের কিছু অংশ ধীরে ধীরে তলিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবনদায়ী রাসায়নিক উপাদানগুলো বরফের নিচে পৌঁছায়। গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক অস্টিন গ্রিন জানান, এই ধারণা মূলত পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার তত্ত্ব থেকে অনুপ্রাণিত। এটি ইউরোপার মহাসাগরে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা সম্বন্ধে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।

বৃহস্পতির মহাকর্ষীয় টানের কারণে ইউরোপার পৃষ্ঠতল ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয়। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পৃষ্ঠের চলন মূলত আনুভূমিক। বরফের স্তরে বড় ফাটল ছাড়া উপরের উপাদান নিচে নামার সুযোগ সীমিত। কম্পিউটার মডেলে দেখা গেছে, লবণাক্ত বরফের ঘন পকেটগুলো কাঠামোগতভাবে দুর্বল। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই অংশগুলো ধীরে ধীরে নিচের মহাসাগরে নামতে পারে।

গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক উপাদানগুলো তলদেশে পৌঁছাতে ৩০ হাজার বছর সময় লাগতে পারে, যা মহাজাগতিক সময়ের জন্য অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এই প্রক্রিয়াটি ‘লিথোস্ফিয়ারিক ফাউন্ডিং’ নামে পরিচিত, যা পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিল রয়েছে।

ইউরোপার প্রায় ৩০ কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরের ওপর ছয়টি ভিন্ন পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে উপরের উপাদান অন্তত ৩০০ মিটার গভীরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তলদেশে পৌঁছাতে সময় লাগে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি বছর, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বা দুর্বল বরফে মাত্র ৩০ হাজার বছরের মধ্যেই এটি হতে পারে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, লবণের পরিমাণ যাই হোক না কেন, উপরের বরফ যদি ভঙ্গুর হয়, প্রক্রিয়াটি কার্যকর হয়। এটি ইউরোপার তলদেশের মহাসাগরে রাসায়নিক উপাদান পৌঁছে দেওয়ার জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে।

আগামী বছর নাসার ‘ইউরোপা ক্লিপার’ মিশন ইউরোপার কাছ দিয়ে ৫০ বার উড়ে যাবে। এটি মহাসাগরের গভীরতা পরিমাপ করবে এবং প্রাণের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ আছে কি না, তা আরও বিশদভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

২০২৪ সালে উৎক্ষেপণ হওয়া মহাকাশযানটি ২০৩০ সালের এপ্রিল মাসে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছাবে। চার বছর মেয়াদী মিশনে ইউরোপার তলদেশে প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর