অনলাইন রিপোর্টার
কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবার আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছেন। হাইকোর্টে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের রিট খারিজ হওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তার আবেদন শুনানির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ১৭ জানুয়ারি কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণ খেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করেছিলেন। এই রিট ২১ জানুয়ারি হাইকোর্টে সরাসরি খারিজ করা হয়। এরপরই তিনি আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মনোনয়নপত্র বাতিলের প্রক্রিয়াটি মূলত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ওপর ঋণ খেলাপির মামলা রয়েছে, যা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্যতার কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই মামলার প্রেক্ষাপটে ইসি কর্তৃপক্ষ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। পরে বিএনপি প্রার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আদালত রিট খারিজ করার সময় উল্লেখ করেন, প্রার্থীর ঋণ সংক্রান্ত অসঙ্গতি নির্বাচন কমিশনের আইনানুগ সিদ্ধান্তের পরিপন্থী নয়।
আপিল বিভাগের কাছে এবার যাওয়া আবেদনটি মূলত হাইকোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার অনুরোধ। সূত্রের মতে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তার আইনজীবীর মাধ্যমে দোষমুক্তি প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করছেন, ঋণ খেলাপ সংক্রান্ত অভিযোগের কিছু তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বা পুনর্বহাল নিয়ে আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত দিলে নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। অন্যথায় তার নির্বাচনী অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের ন্যায্য বিচার আশা করা হচ্ছে। পার্টি কর্মকর্তারা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার আইনি অধিকার প্রত্যেক প্রার্থীর রয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, উচ্চ আদালতের রায় প্রার্থীর জন্য অনুকূলে হতে পারে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং সকল অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীর নামনির্বাচন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে আইন অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা রক্ষা করা হয়।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী যদি আপিল বিভাগে সফল হন, তবে তিনি কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্যথায়, বিএনপি দলকে বিকল্প প্রার্থী ঘোষণা করতে হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সব সময় নিশ্চিত করেছে যে, আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো প্রার্থীকে প্রতিযোগিতায় রাখা হবে না।
এ পরিস্থিতিতে নজর থাকবে আপিল বিভাগের রায়ের উপর। রাজনৈতিক মহল ও ভোটাররা আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন কুমিল্লা-৪ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার জন্য।
আকাশজমিন / আরআর