ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মেট্রোরেল না মনোরেল: ঢাকায় কোনটি বেশি সুবিধাজনক?


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:১১ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে দীর্ঘদিন ধরে মেট্রোরেল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে শহরের জন্য মেট্রোরেল চালু হয়, আর বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মনোরেল চালুর কথাও উঠে এসেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মহামানবী বনানী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মনোরেলকে মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

২০ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বনানী সোসাইটি আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় মনোরেলের পরিকল্পনা তিনি প্রকাশ করেন। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও মনোরেল চালুর উদ্যোগ নেয়। সেখানে সাড়ে ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ তিনটি রুটে মনোরেল নির্মাণে অন্তত ২৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ওরাসকম কনস্ট্রাকশন এবং আরব কন্ট্রাক্টরস—দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে সম্ভাব্য রুটগুলো হলো: কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর (২৬.৫ কিমি), সিটি গেট থেকে শহীদ বশিরুজ্জামান চত্বর (১৩.৫ কিমি) এবং অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গিবাজার (১৪.৫ কিমি)। ঢাকার পাশের নারায়ণগঞ্জেও মনোরেল নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০০৫ সালে ঢাকার ২০ বছরের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) প্রণয়ন করা হয়। ২০১৪ সালে জাপানের অর্থায়ন ও পরামর্শকেরা এসটিপি সংশোধন করে আরএসটিপি তৈরি করেন। এর ভিত্তিতে ঢাকা শহরের গণপরিবহন উন্নয়নের জন্য নানা প্রকল্প নেয়া হয়।

মনোরেল বনাম মেট্রোরেল:

মনোরেল একটি মাত্র লাইনের ওপর চলাচল করে। একটি বিমের ওপর ট্রেন চলাচল করে, ফলে দুটি লাইন দরকার হয় না। বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের সঙ্গেই যুক্ত থাকে। মেট্রোরেলে দুটি লাইনের মাধ্যমে চলাচল হয় এবং খুঁটি বা তারের ভার বহনযোগ্য কাঠামোর প্রয়োজন হয়।

মনোরেলের প্রধান সুবিধা হলো কম জায়গায় নির্মাণ সম্ভব, সরু ও ঘন শহর এলাকাতেও তৈরি করা যায়, এবং আঁকাবাঁকা পথে সহজে চলাচল করতে পারে। তুলনামূলকভাবে মনোরেলের নির্মাণ খরচ কম। মেট্রোরেলের লাইন বাঁকা হলে গতি কমাতে হয় এবং খরচ বেড়ে যায়।

বিশ্বের বড় শহরগুলোতে মেট্রোরেল জনপ্রিয়। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পাতাল পথে মেট্রোরেল, আর জাপান, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে উড়ালপথে চলে। চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বহু দেশে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেলও চলাচল করছে। মিসরের কায়রো এবং চীনের গুইলিনে নির্মাণকাজ চলছে। তবে মনোরেল সাধারণত মেট্রোরেলের তুলনায় কম যাত্রী পরিবহন করতে পারে।

ঢাকার বর্তমান মেট্রোরেল দিনে প্রায় চার লাখ যাত্রী পরিবহন করছে।

ঢাকার বাস্তব চ্যালেঞ্জ:

ঢাকার জনসংখ্যা ঘন এবং শহর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। সব স্থানে মেট্রোরেল তৈরি সম্ভব নয়। সরু রাস্তা ও পুরনো এলাকা যেমন পুরান ঢাকার অনেক রাস্তায় বাসও চলাচল করতে পারে না, এমনকি খিলগাঁও, গোড়ান, বাসাবো এলাকায় গণপরিবহন কম। এই সব স্থানে মনোরেল সহজে নির্মাণ করা যায়।

মনোরেল কিছু শহর বা এলাকায় উপযুক্ত নাও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা শহরের মনোরেল প্রকল্প বাতিল করতে হয়েছে। তবে বিশ্বের অনেক শহরে মনোরেল সফলভাবে চলছে। মেট্রোরেল, মনোরেল, উড়ালসড়ক ও বিআরটি সহ বহুমাত্রিক গণপরিবহন ব্যবস্থার সমন্বয় করা হয়েছে। ভারতের মুম্বাইয়ে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেলও রয়েছে, যা দিনে দেড় থেকে দুই লাখ যাত্রী পরিবহন করে।

বিশেষজ্ঞ মতামত:

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েট-এর পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ঢাকার জন্য মেট্রোরেলের সবচেয়ে উপযুক্ত পথ হচ্ছে উত্তরা- মতিঝিল। যাত্রী সংখ্যা বেশি, কিন্তু ব্যয়ও বেশি। পরবর্তী মেট্রোরেল লাইনগুলোর বড় অংশ পাতাল পথে হওয়ায় খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেলও বিবেচনা করতে হবে। সরু এবং ঘন এলাকা মনোরেল মাধ্যমে যুক্ত করা যায়। যেমন বিজয় সরণি থেকে খামারবাড়ি পর্যন্ত মনোরেল বড় মোড় না নিয়ে মূল সড়ক ধরে যেতে পারবে, খরচও কম হবে।

ঢাকার মেট্রোরেলের প্রতি কিলোমিটার খরচ হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। ভারতের মুম্বাইয়ের ২০ কিমি মনোরেল খরচ হয়েছে ৩২৮৩ কোটি টাকা, প্রতি কিমি খরচ ১৬৪ কোটি টাকা। মুম্বাই মনোরেল দৈনিক ১.৫-২ লাখ যাত্রী পরিবহন করে। ঢাকার মেট্রোরেল দিনে চার লাখ যাত্রী পরিবহন করছে।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরেও মনোরেল চলছে। মিসরের ৯৬ কিমি মনোরেল প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার, প্রতি কিমি খরচ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

ঢাকার সরু ও ঘন এলাকায় মনোরেল সুবিধাজনক, নির্মাণ খরচ কম এবং আঁকাবাঁকা পথে চলতে পারে। মেট্রোরেল বড় এবং বেশি যাত্রী পরিবহন সক্ষম হলেও ব্যয় বেশি। ঢাকার জন্য মেট্রোরেল ও মনোরেল উভয়ই প্রয়োজন, শহরের বিভিন্ন এলাকা যুক্ত করতে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর