ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সতর্কতা জোরদার করেছে। সীমিত সংখ্যক সংক্রমণ হলেও ভাইরাসটির উচ্চ মৃত্যুহার ও কার্যকর টিকার অভাবের কারণে আসন্ন টি–২০ বিশ্বকাপ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন পর্যন্ত দুইজন রোগী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আরও কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতের প্রতিবেশী রাজ্য ওডিশা এবং কেরালাতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেরালায় নিপাহকে স্থানীয়ভাবে বিদ্যমান রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নিপাহ ভাইরাসটি মূলত প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। ফলের বাদুড় এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক। দূষিত খাবার, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ বা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের মাধ্যমে এ ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নিপাহ ভাইরাসে গুরুতর শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত এনসেফালাইটিস হতে পারে। বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৪০–৭৫ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে।
করোনাভাইরাসের মতো নিপাহ সহজে বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। সাধারণত সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটে। তবু মারাত্মক প্রকৃতি ও কার্যকর চিকিৎসা বা টিকার অভাবের কারণে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে থাইল্যান্ড, নেপাল, তাইওয়ানসহ কয়েকটি দেশ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই পরীক্ষা কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনুসৃত কাঠামো অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে। লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও প্রয়োজনে আলাদা রাখা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের মতো দেশজুড়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের আগে এমন সংক্রমণের খবর উদ্বেগের কারণ হতে পারে। যদিও নিপাহ সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাস মোকাবিলায় দ্রুত শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং সহায়ক চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। এ কারণে আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আসন্ন টি–২০ বিশ্বকাপের সময় বড় জনগণের সমাগম এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের আগমনকে মাথায় রেখে ভারতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
আকাশজমিন / আরআর