স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তিন শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। কমপক্ষে তিনবার, দশবার, পঁচিশবার এবং পঞ্চাশবার রক্তদান করেছেন—এমন স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের এই সম্মাননা জানানো হয় তাদের মানবিক অবদান ও নিঃস্বার্থ সেবার স্বীকৃতি হিসেবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলস্থ আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও মেডেল তুলে দেন এবং তাদের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী বলেন, রক্তদান মানুষের প্রতি মানুষের সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কারণে অসংখ্য রোগী নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছে। সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে তরুণদের আরও বেশি করে রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রক্তদানের অনুভূতি ব্যক্ত করেন ‘ও’ পজেটিভ গ্রুপের ২৬ বারের রক্তদাতা মো. আহসানুল হক ফাহিম। তিনি বলেন, নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচাতে পারার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটি একজন মানুষের জন্য আত্মতৃপ্তি ও সামাজিক দায়িত্ববোধের অনন্য অভিজ্ঞতা।
এসময় স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত নিয়মিত রক্তগ্রহীতা রাকিবুল ইসলাম রুশোর স্ত্রী সোনিয়া রেজিনা। তিনি বলেন, নিয়মিত রক্তদাতাদের সহানুভূতি ও মানবিকতায় তাদের পরিবারের মতো অসংখ্য পরিবার নতুন করে বাঁচার আশা পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক মোটিভেশন এম রেজাউল হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের কো-অর্ডিনেটর ডা. মনিরুজ্জামান। বক্তারা স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে দেশে নিরাপদ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে কোয়ান্টাম ল্যাবের পক্ষ থেকে সকল স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পাশাপাশি দেশে রক্তের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে তরুণ স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের মানবিক এই সেবায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০০ সালে কোয়ান্টাম ল্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মুমূর্ষু রোগীদের সেবায় কোয়ান্টাম ১৭ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬শ ইউনিট রক্ত ও রক্ত উপাদান সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। যা দেশের স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমে একটি উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর