ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সম্প্রচার খাতে বড় পরিবর্তন: নতুন আইনে কড়া শাস্তির বিধান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৯:১২ এএম

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও সম্প্রচার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকার নতুন ও কঠোর আইন আনতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘সম্প্রচার অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশে গোপন সামরিক ও বেসামরিক তথ্য প্রচার, জুয়া ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন, এবং লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়া অধ্যাদেশের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত জানতে ২৭ জানুয়ারি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই এই অধ্যাদেশ জারি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আইন কার্যকর হওয়ার পর সরকার একটি স্বতন্ত্র ‘সম্প্রচার কমিশন’ গঠন করবে। পাঁচ সদস্যের এই কমিশনের দায়িত্ব হবে দেশের টেলিভিশন, রেডিও, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট, আইপি টিভি ও বাণিজ্যিক অনলাইন পোর্টালসহ সব ধরনের সম্প্রচার কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করা। কমিশন গঠনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বাছাই কমিটি করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

প্রস্তাবিত কমিশন সম্প্রচার নীতিমালা, আচরণবিধি ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর প্রণয়ন করবে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন তদারকি করবে। কোনো সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান নীতিমালা লঙ্ঘন করলে কমিশন জরিমানা, সংশোধনী নির্দেশ, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতা পাবে। প্রয়োজনে কমিশন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় পরিদর্শন ও ডিজিটাল নথিপত্র জব্দ করতে পারবে।


আইনে বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া টেলিভিশন, রেডিও, স্যাটেলাইট চ্যানেল, আইপি টিভি, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, স্ট্রিমিং বা ভিডিও অন ডিমান্ড কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নতুন লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে এবং তরঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিটিআরসি থেকে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ বাধ্যতামূলক হবে।

খসড়া অধ্যাদেশে অপরাধ ও দণ্ডের বিষয়ে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এমন গোপন সামরিক বা বেসামরিক তথ্য প্রচার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া জুয়া, বাজি, অনুমোদনহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন, তামাক বা মদজাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করলে বিজ্ঞাপনদাতা ও সম্প্রচার সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৩০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, আদালত বা সেনানিবাস এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সম্প্রচার সংক্রান্ত অপরাধ বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এসব ট্রাইব্যুনালে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকবে। কমিশনের অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মামলা দায়ের করতে পারবেন না। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (সম্প্রচার) মো. আলতাফ হোসেন জানান, খসড়া অধ্যাদেশটি মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর