গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়বে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে অথবা ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সরকার বলছে, এসব দাবি পুরোপুরি গুজব ও বাস্তবতাবিবর্জিত।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই বিভ্রান্তিকর দাবির সঙ্গে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড সংযুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই ফটোকার্ডে শিরোনাম হিসেবে উল্লেখ ছিল, ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।’ এই বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সরকারবিরোধী বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে জানানো হয়।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বক্তব্যটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন বা ছয় মাস গণপরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। বরং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তারা সরকার গঠন করবেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাজেট প্রণয়ন করবেন। একই সঙ্গে সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরাতে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কারের জন্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে সরকার জানায়, গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের বিপক্ষে নয়, বরং পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষদের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুরো সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের দায়িত্বও পালন করবেন। তবে কোথাও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বিধান বা ইঙ্গিত নেই। সবশেষে সরকার স্পষ্ট করে জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
আকাশজমিন / আরআর