ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে ১৫ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড: টিআইবি


  • আপলোড সময় : সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:১২ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মাত্র ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সহিংসতার মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। তফসিল ঘোষণার পরবর্তী সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, শুধু নির্বাচনি সময় নয়, গত ১৭ মাস ধরেই রাজনৈতিক সহিংসতা একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী। পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৮২ জন। এই পরিসংখ্যান দেশের রাজনৈতিক সহনশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।

ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দলের পরিসংখ্যান তুলে ধরে টিআইবি জানায়, ৫৫০টি ঘটনায়, যা মোট ঘটনার ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ, বিএনপির নেতাকর্মীরা সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া ১২৪টি ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ (২০ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং ৪৬টি ঘটনায় (৭ দশমিক ৭ শতাংশ) জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট ছিল। একাধিক ঘটনায় একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা থাকায় শতকরা হার ১০০ ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু সাম্প্রতিক সময় নয়, ২০২৫ সালেও রাজনৈতিক সহিংসতা ছিল উদ্বেগজনক মাত্রায়। ওই বছরে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০২ জন। সহিংসতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে বলে জানায় সংস্থাটি।

টিআইবি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ১ হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে ডিপফেক, ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব কারণে নির্বাচনি পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর পঞ্চাশের বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদজুড়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক ছিল। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, আন্দোলন, লুটপাট ও অরাজকতা অব্যাহত রয়েছে, যা জননিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

অর্থনৈতিক দিকেও রাজনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৬৭ কোটি ডলার। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ কোটি ডলারে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। রাজনৈতিক সহিংসতা ও অনিশ্চয়তাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে টিআইবি।



এ সম্পর্কিত আরো খবর