র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংস্থাটির নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন সাপেক্ষে আদেশ জারি হলে নতুন নামেই বাহিনীটির কার্যক্রম শুরু হবে।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অনুমোদন করেছেন। নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। আদেশ জারি হওয়ার পর থেকেই বাহিনীটি নতুন পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আজ থেকেই র্যাব নতুন নামে পরিচিতি পাবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আদেশ প্রকাশের পর সাংগঠনিক কার্যক্রম ও পরিচয়পত্রসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও বলেন, এই বিশেষায়িত ইউনিটের পোশাকেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই নতুন পোশাক তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এসআইএফ সদস্যদের নতুন পোশাকে দেখা যেতে পারে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে র্যাবের কাজের মানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বাহিনীর কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতি এবং জনআস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেকের প্রত্যাশা ছিল বাহিনীর পরিচয় ও কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে, সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবেই নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
র্যাব গঠনের ইতিহাস তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই বাহিনীর প্রাথমিক নাম ছিল র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট)। পরবর্তীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নামে এটি পরিচিতি পায়। ২০০৪ সালে এই বাহিনী গঠিত হয় এবং দীর্ঘ ২২ বছর পর এবার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ নামে বাহিনীটির ভূমিকা আরও স্পষ্ট ও বিশেষায়িতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ইউনিটকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি বাহিনীর কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি এবং আইনানুগতার বিষয়গুলো আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভবিষ্যতে এসআইএফের কাঠামো ও দায়িত্বের ক্ষেত্রেও কিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, র্যাব গঠনের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বাহিনীটি দেশব্যাপী অপরাধ দমন ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নতুন নামে যাত্রার মাধ্যমে বাহিনীটির কাজের পরিধি ও ভাবমূর্তি নতুনভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর