স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা–১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি নারীর মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “নারীদের সম্মান নিয়ে যারা কটূক্তি করে, তাদের নারী সমাজ এবার লাল কার্ড দেখাবে।”
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে নারী মানবাধিকার উন্নয়ন কর্মসূচী (নামাউক) আয়োজিত এক সেমিনার ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুলি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নারীদের মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে বিতর্কিত কথাবার্তা বলছে। কর্মজীবী নারীদের সঙ্গে যেভাবে তারা আচরণ করেছে, সেটি কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু বলবো—আপনারাও কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। মা’কে সম্মান দিতে না পারলে অন্তত অপমান করবেন না।”
তিনি আরও বলেন, নারীর অবমাননা করে রাজনীতি করা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। বিগত ১৬ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তুলি বলেন, “আমাদের কারো ভাই, কারো সন্তান, কারো স্বামীকে গুম করা হয়েছে। সেই ভয়ঙ্কর সময়ে রাজপথে লড়াই ও সংগ্রাম করেছে মা ও মেয়েরা। তাদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজ কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।”
তুলি জানিয়েছেন, সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার নারীরাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবে। তিনি বলেন, “ঢাকা–১৪ আসনের নারীসহ দেশের সকল নারী সমাজ এবার তাদের লাল কার্ড প্রদর্শন করবে। অন্যায়, অপমান ও বৈষম্যের রাজনীতি আর চলবে না।”
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণজাগরণ শুরু হয়েছে। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।”
নিজের পরিচয় তুলে ধরে তুলি বলেন, “আমি নিজেও একজন নারী ও মা। আমি জানি কিভাবে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। খুনী হাসিনাকে ভয় পাইনি, সুতরাং কোনো অন্যায় ও অত্যাচারের কাছেও মাথা নত করবো না।”
তিনি গুম হওয়া স্বজনদের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বলেন, “যতদিন না গুম হওয়া স্বজনদের ফিরিয়ে আনতে পারবো, ততদিন আমাদের রাজপথের লড়াই চলবে।”
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী নেত্রী, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভায় নারীর অধিকার, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, নির্বাচন সামনে রেখে নারীর মর্যাদা ও অধিকারকে কেন্দ্র করে এই সেমিনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তুলি’র বক্তব্যে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রতিবাদের আহ্বান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আকাশজমিন / আরআর