ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

পল্লবীতে দুই শিশুসন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৪৭ পিএম

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর ওয়াপদা ভবন বিহারী ক্যাম্প এলাকা থেকে দুই শিশুসন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন— মোহাম্মদ মাসুম (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০), ৪ বছর বয়সী ছেলে মিনহাজ এবং ২ বছর বয়সী ছেলে আসাদ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশু দুটিকে হত্যার পর স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে পল্লবীর ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্পের বি-ব্লক এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলটি মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের (পল্লবী) বি-ব্লকের ৩ নম্বর ওয়াপদা ভবন বিহারী ক্যাম্প এলাকায় অবস্থিত। নিহত পরিবারটি সেখানে টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, আজ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত মোহাম্মদ মাসুম পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। আর তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসারের আয়-ব্যয়ের ভার সামলাতেন। দুই শিশুসন্তান নিয়ে পরিবারটি অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাত বলে আশপাশের লোকজন জানিয়েছেন। তারা বলছেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চেষ্টা করতেন পরিবারটিকে টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানা আর্থিক চাপ ও দেনার বোঝা পরিবারটির ওপর ভর করে।

স্থানীয়রা আরও জানান, পরিবারটি বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিল। প্রতিদিন কেউ না কেউ ঋণের টাকা আদায়ের জন্য তাদের বাসায় আসত। অনেক সময় তারা দরজায় কড়া নাড়তেন, খোঁজ নিতেন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে চাপও সৃষ্টি করতেন বলে অভিযোগ করেন প্রতিবেশীরা। স্থানীয়দের ধারণা, ধারদেনা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, হয়তো কোনো উপায় না পেয়ে বাবা-মা শিশু দুটিকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

তবে পুলিশ বলছে, এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা— তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আশপাশের লোকজনের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং নিহতদের পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থার দিকগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে একই পরিবারের চারজনের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই শিশু দুটির মৃত্যুতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরা জানান, শিশুদুটি নিয়মিত আশপাশে খেলাধুলা করত। তাদের এমন করুণ মৃত্যু এলাকাবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহীন আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল কি না, বা আর্থিক কারণে কোনো চাপ ছিল কি না— এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিচিতজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, শিশু দুটিকে হত্যার পর বাবা-মা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এটি নিশ্চিত হতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন, মৃত্যুর ধরন, ঘরের ভেতরের পরিস্থিতি, এবং আশপাশের লোকজনের বক্তব্য— সবকিছু মিলিয়ে পুলিশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।

এই ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, দারিদ্র্য, ঋণের চাপ এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব অনেক পরিবারকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। কেউ কেউ মনে করছেন, আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা পেলে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়।

ঘটনাটি নিয়ে পল্লবী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা বা প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আরও তথ্য সংগ্রহ করছে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর