ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ভোটার কি নিরাপদে ভোট দিতে পারবে?


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৫৫ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিকটে আসছে, সারা দেশে চলছে প্রচারণা-প্রচারণা। নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত ও সহিংস হয়ে উঠছে, যা এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শঙ্কা। দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। গত তিনটি নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা ভোট দিতে আগ্রহী, তবে ভোটারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও ভীতিও রয়েছে।

নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের শঙ্কার যৌক্তিক কারণ আছে। নির্বাচনী প্রচারণার পর থেকে সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা এবং অসহিষ্ণু আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটের দিন যদি পরিবেশ স্বাভাবিক না হয়, ভয়ে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে না পারলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ বাংলাদেশের নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। তাদের মতে, নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতিই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মূল মাপকাঠি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দেবেন। তবে এটা তখনই সম্ভব হবে যখন ভোটাররা নিরাপদভাবে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাবে। সাধারণ নাগরিকরা যদি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যান, তাহলে নির্বাচনের প্রকৃত অংশগ্রহণ সম্ভব হবে না।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি নির্বাচনী সময়সীমায় ৫৩ দিনে ২৭৪টি সহিংসতা ঘটেছে। প্রধান সহিংসতার মধ্যে রয়েছে—ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণ ১৬টি, প্রার্থীর ওপর হামলা ১৫টি, হত্যাকাণ্ড ৫টি, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের সংঘর্ষ ৮৯টি। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ৩টি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ৯টি, প্রচারে বাধা ২৯টি, নির্বাচন সংক্রান্ত অফিসে হামলা ২০টি, অবরোধ ও বিক্ষোভ ১৭টি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ১টি। অন্যান্য সহিংসতা ৭০টি।

গত নির্বাচনে সহিংসতার পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৩০টি সহিংসতায় ১১৫ জন নিহত ও ৩১৫ জন আহত হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪১৪টি সহিংসতায় ২২ জন নিহত ও ৭৮০ জন আহত হন। দ্বাদশ নির্বাচনে ৫৩৪টি সহিংসতায় ছয়জন নিহত ও ৪৬০ জন আহত হন।

নির্বাচনের ঠিক আগে পুলিশ এবং র‌্যাব নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরোপুরি সক্রিয় হতে পারেনি। ৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা র‌্যাবের নাম পরিবর্তন ঘোষণা করেন। এখন থেকে র‌্যাবকে বলা হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। নাম ও পোশাক পরিবর্তনের পাশাপাশি কার্যক্রমেও সংস্কার আনা হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এমন ঘোষণা নিরাপত্তাকে দুর্বল করতে পারে।

নির্বাচনের দিন জনগণের প্রধান ভরসা সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নিশ্চিত করেছেন, ভোটের দিন যারা র‌্যাগিং বা ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অ্যাকশন নেবে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে তারা ভোট দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রকাশিত হলে গণতন্ত্র জোরদার হবে। ভোটারবিহীন সহিংস নির্বাচন দেশকে অস্থিতিশীল করবে এবং অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকেই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর