ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানকে অমানবিক নির্যাতন করেছিল ডিজিএফআই: সাবেক সেনাপ্রধান


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৫৭ পিএম

২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ডিজিএফআই কার্যত মুখ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে নিজেদের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করা হতো—এমন তথ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ওই সময় বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে রাখার প্রবণতা একপর্যায়ে অভ্যাসে পরিণত হয়। এতে যেকোনো ব্যক্তিকে আটক করে ইচ্ছামতো আচরণ করা যায়—এমন মনস্তাত্ত্বিক বাধা ভেঙে যায় এবং সংশ্লিষ্টরা নিজেদের কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ডিজিএফআই কার্যত মুখ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল। বিভিন্ন সময়ে বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে আটকে রাখা হতো। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটত বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া আরও বলেন, ওই সময় অনেক মন্ত্রী-এমপির নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা ওই সময়ের বাস্তবতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সাবেক সেনাপ্রধান তার জবানবন্দিতে সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগের ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অন্তত ১২ জন ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা গেছেন বলে সরকারি ভাষ্য ছিল। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০।

তিনি আরও বলেন, ওই অভিযানের পর সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। এই দায়মুক্তি কার্যত ‘লাইসেন্স টু কিল’-এর সমতুল্য ছিল বলে মন্তব্য করেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

এদিন শুনানির শুরুতে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া জবানবন্দি দিচ্ছেন।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর