ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বয়কট প্রত্যাহার, ভারতের বিপক্ষে খেলছে পাকিস্তান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১০:১৪ এএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দলকে মাঠে নামার অনুমতি দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচটি এখন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

পাকিস্তান সরকার এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে জানিয়েছে, ‘অর্জিত ফলাফল এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে’ তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে কয়েক দিন ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে।

গত কয়েক দিন ধরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে লাভজনক এবং আলোচিত ম্যাচটিতে পাকিস্তানকে ফিরিয়ে আনতে একাধিক পক্ষ সক্রিয় ছিল। পিসিবি, বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলেছে। বিদেশি গণমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো সোমবার সকালেই প্রতিবেদনে জানায়, এসব আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে এবং সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছিলেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তার এই বক্তব্যের কয়েক মিনিট আগেই আইসিসি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বাংলাদেশের প্রতি তাদের অবস্থান কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত দেয়, যা পরিস্থিতি মোড় ঘোরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তটি পাকিস্তান নিয়েছিল বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে। ভারতে ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আইসিসি পরে নিশ্চিত করে, এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের ওপর কোনো ধরনের আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে ২০২৮–২০৩১ চক্রে বাংলাদেশকে একটি অতিরিক্ত আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই ঘোষণার পর বিসিবি একটি বিবৃতি দিয়ে পিসিবিকে তাদের দৃঢ় সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানায় এবং ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানায়। বিষয়টি পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

গত রোববার বিসিবি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এবং আইসিসি পরিচালক ইমরান খাজা পিসিবির সঙ্গে আলোচনা করতে লাহোরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির আচরণ, বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আগেই বলেছিলেন, বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্রীড়াঙ্গনে ন্যায়বিচার ও সমতার প্রশ্নে পাকিস্তান আপস করতে চায় না।

আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিসিবি ছাড়া একমাত্র পিসিবিই ভোট দিয়েছিল। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এ বিষয়ে আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অবিচার’ করা হয়েছে। আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

পিসিবি স্পষ্ট করে জানায়, বয়কট প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুবিধা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান শর্ত ছিল। আলোচনার মাধ্যমে সেই শর্তগুলো পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পরই পাকিস্তান সরকার চূড়ান্ত অনুমতি দেয়।

সবশেষে বলা যায়, কূটনৈতিক ও ক্রীড়াগত সমঝোতার মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটি আবারও মাঠে গড়াতে যাচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি এখন বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর