বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও দৈনিক দিনকালের সিনিয়র সাংবাদিক আলী মামুদের মৃতদেহ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ওয়াশরুম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের একটি শৌচাগারের তালা ভেঙে আলী মামুদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, আলী মামুদ দিনকাল পত্রিকার সিটি এডিটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি একজন সৎ ও সহজসরল সংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সহকর্মীরা তাকে দায়িত্বশীল, সতর্ক ও সদয় মনোভাবের মানুষ হিসেবে মনে করেন। সাংবাদিক সমাজের অনেকেই তার আকস্মিক মৃত্যুকে শোকসঙ্গত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মরদেহ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় প্রেস ক্লাবের নিরাপত্তা ও প্রশাসনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, কোনো অপরাধমূলক ঘটনা আছে কি না তা যাচাই করতে তারা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
আলী মামুদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী ও পাঠকরা তার জন্য শোকপ্রকাশ করেছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পরিবর্তিত সময়ে সাংবাদিকতা ও মিডিয়ার জগতে তার অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার কর্মজীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হচ্ছে। তিনি সংবাদ সংকলন, প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধান এবং সঠিক তথ্য উপস্থাপনায় ছিলেন সচেতন।
নাগরিক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করা উচিত। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পেছনে কোনো অনিয়ম বা উদ্ভট পরিস্থিতি থাকলে সেটি তদন্ত করা জরুরি।
এ ঘটনায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের কর্মকর্তা এবং পুলিশ রিটার্নিং কর্মকর্তারা মরদেহ উদ্ধার ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর সঠিক মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শহরের সাংবাদিক সমাজে আলী মামুদের মৃত্যুতে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। সাংবাদিক সহকর্মীরা তার পরিবারকে মানসিক সহায়তা প্রদান করছেন।