রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে আজ এটি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে অবস্থান করছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউএয়ারের তথ্যানুসারে, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার বায়ুর মান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এ কিউ আই) ২৮৩ রেকর্ড করেছে। এই মানের বায়ু ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
আইকিউএয়ারের তথ্যে দেখা গেছে, বিশ্বে আজ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহর ভারতের দিল্লি, যার বায়ু স্কোর ২৫৬। এরপর কুয়েত সিটি (২১৭) এবং পাকিস্তানের লাহোর (২১৩) রয়েছে। এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে বায়ুদূষণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে।
বায়ুমান সূচক বা এ কিউ আইকে বিভিন্ন মানদণ্ডে ভাগ করা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে বায়ুকে মাঝারি বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও অন্তঃসত্ত্বা। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে বায়ু অস্বাস্থ্যকর। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরের মধ্যে বায়ু ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। ৩০১ এবং তার ওপরের স্কোরকে দুর্যোগপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ বায়ু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ঢাকার আজকের বায়ু মান যে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে আছে, তা সাধারণ মানুষসহ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এমন অবস্থায় বাইরে থাকা, শারীরিক শ্রম করা এবং দূষিত বায়ু শ্বাস নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের বাড়ি বা সুরক্ষিত স্থানে থাকা জরুরি।
ঢাকার বায়ুদূষণের মূল কারণ হিসেবে যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া, শিল্প-কারখানার ধোঁয়া, ইটভাটা ও নির্মাণকাজ থেকে নির্গত কণিকা, এবং কঠোর আবহাওয়ার কারণে দূষিত কণার জমাট বেঁধে থাকা উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষ করে শীতকালীন সময়ে বায়ুমণ্ডলে স্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বায়ু চলাচলের কমতি দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
পলিউশন রেসপন্স বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলকভাবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, শিল্প কারখানায় কঠোর পদক্ষেপ, সবুজবৃক্ষ বৃদ্ধি ও ধুলাবালি কমানোই একমাত্র উপায়। তারা আরও জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যেন মাস্ক ব্যবহার ও বাড়িতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, এ ধরনের ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুতে দীর্ঘ সময় থাকা শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃৎপিণ্ডের সমস্যা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে।
ঢাকার দূষণ পরিস্থিতি বর্তমানে এমন পর্যায়ে যে, এটি শুধু স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিকভাবে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এ সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।