ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ভোটের আগে সব স্থলবন্দর বন্ধ রাখার নির্দেশ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:১৬ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশের নিরাপত্তা বলয় শক্তিশালী করতে সরকার সব সীমান্তের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি যাতে দেশের ভেতরে প্রবেশ বা দেশত্যাগ করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারির অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন দেশের সব স্থলবন্দর বন্ধ রাখার মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সীমান্ত উন্মুক্ত রাখলে দুর্বৃত্তরা দেশে ঢুকতে বা বের হতে পারে। সীমান্ত বন্ধ করলে এই ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যায়। তাই সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত যৌক্তিক এবং প্রশংসার দাবিসাপেক্ষ মনে করছেন তারা।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে এবং সব ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, নৌপরিবহন সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যে অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ভোর ৬টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশের সব স্থলবন্দর বন্ধ থাকবে। এই সময় সীমান্তে বহির্গমন কার্যক্রমও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পৃথক প্রতিবেদনের পর্যালোচনার ভিত্তিতে এটি নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে অস্ত্র, বিস্ফোরক বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম যাতে দেশের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে, তার প্রতি নজর রাখা হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি যাতে দেশত্যাগ না করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা রাষ্ট্রের প্রথম প্রতিরক্ষা রেখা হিসেবে কাজ করে। নির্বাচন ও গণভোটের সময় দেশের ভেতর বা বাইরে যেকোনো ধরনের নাশকতা, অন্তর্ঘাত বা বিদেশি প্রভাব প্রতিহত করতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ভোটের আগে সীমান্ত ব্যবহার করে অস্ত্র বা বিস্ফোরক প্রবাহের ঝুঁকি রয়েছে। তাই ‘জিরো মুভমেন্ট’ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের আগে পালিয়ে যেতে পারে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি সহজ এবং বিদেশি প্রভাবের ঝুঁকি কমে যায়।

নির্বাচনী নিরাপত্তার সময় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। সীমান্তে নিয়মিত ইমিগ্রেশন পরিচালনা করলে জনবল বিভক্ত হয়ে যায়। সব বাহিনী এক লক্ষ্য— নির্বাচনের নিরাপত্তা, তাই সীমান্তে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া অনুচিত। এই কারণে সব স্থলবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে যুক্তিযুক্ত মনে করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমারে আরাকান আর্মি ও সেনাবাহিনীর সংঘাত সীমান্তে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও অস্ত্র পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সীমান্ত উন্মুক্ত রাখা সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। আন্তর্জাতিক সীমানা অনেক সময় সন্ত্রাসী বা অন্তর্ঘাতকারী গোষ্ঠীর জন্য ‘সফট এন্ট্রি পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করে।

নির্বাচনের আগে অপরাধচক্র সাধারণত দুটি কাজ করে— দেশে ঢুকে নাশকতা করা অথবা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া। সরকার সব স্থলবন্দর বন্ধ করে অপরাধীদের ‘সহজ রুট’ বন্ধ করেছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অনেকাংশে সহজ হয়েছে।

প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জাহিদ রহমান বলেন, রাষ্ট্র যখন নির্বাচন বা গণভোটের মতো সংবেদনশীল আয়োজন করে, তখন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মতো বিশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং যৌক্তিক। তিনি আরও বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে— নির্বাচনের সময় কোনো বিদেশি প্রভাব বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি সরকার কোনোভাবেই উপেক্ষা করছে না।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর