নির্বাচনকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ভোটারদের পাঠানো বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা গ্রহণ করছেন। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ব্যালট জমা পড়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে। ‘Postal Vote BD’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ভোটারদের (ICPV) ভোটদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫৭৯ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন প্রবাসী ভোটার। সংশ্লিষ্ট দেশের ডাক বাক্সে জমা পড়েছে ৫ লাখ ৭ হাজার ৩২৭টি ব্যালট। এর মধ্যে ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৮৫টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে এবং ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানেও উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ পোস্টের মাধ্যমে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮টি ব্যালট ভোটারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ১০ হাজার ৬৫০ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৫ জন ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। পোস্ট অফিসে জমা পড়েছে ৫ লাখ ৬১ হাজার ১৩৯টি ব্যালট। এর মধ্যে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫১টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেছেন।
প্রবাসী ও অভ্যন্তরীণ—দুই শ্রেণির ভোটারের ব্যালট মিলিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা পড়া পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৭টি, যা প্রায় ৯ লাখের কাছাকাছি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিদিনই নতুন করে ব্যালট দেশে পৌঁছাচ্ছে এবং তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যালট গ্রহণ, সংরক্ষণ ও গণনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট ব্যালটও দেশে পৌঁছাবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে। পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটার অংশগ্রহণ করায় নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আকাশজমিন
/ আরআর