বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২১ মিনিটে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট প্রদান শেষে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মতবিনিময় করেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। এ সময় কেন্দ্রের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ভোট দেওয়ার পরপরই প্রধান উপদেষ্টা পুলিশ সদর দফতরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিদর্শন করেন। সেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ভোটকেন্দ্র থেকে আসা লাইভ ভিডিও ফিড ও তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করা হয়। মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটার উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর অবস্থা সরাসরি পর্যালোচনা করেন তিনি।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিভিন্ন এলাকায় ভোটগ্রহণের পরিবেশ, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নেওয়া হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
পরে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় স্থাপিত অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকেও ভোটের সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করেন। সেখানে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভোটার উপস্থিতির হার, বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন। কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে। বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার খবর পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।