ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মূল্যায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন জানিয়েছে, ২০০৮ সালের পর এই নির্বাচন সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেছেন, এ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন বেঞ্চমার্ক স্থাপন করেছে।
ইভার্স ইজাবস শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নির্বাচন সত্যিই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করেছে।” তিনি বলেন, অপতথ্য বা ভুল তথ্য পরিবেশন নির্বাচনে নেতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এবারের নির্বাচন তা এড়িয়ে গেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে প্রচার চালাতে পেরেছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, “প্রার্থীরা যথাসাধ্য স্বচ্ছভাবে প্রচার করেছেন, কিন্তু দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কিছু ক্ষেত্রে প্রচারণার ওপর প্রভাব ফেলেছে। এটি ভবিষ্যতের নির্বাচনে আরও সমাধানযোগ্য একটি চ্যালেঞ্জ।”
ইইউ পর্যবেক্ষক ইজাবস নারীর অংশগ্রহণের ওপরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে গণ–অভ্যুত্থানে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তবে এবারের নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত ছিল। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র চার শতাংশ, যা নির্বাচনে তাদের উপস্থিতি প্রায় অদৃশ্য করে দিয়েছে।” তিনি নির্বাচনের ফলে প্রাপ্ত ফলাফলের আলোকে নতুন সরকারকে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
ইজাবস আরও বলেন, “নতুন সরকার জনগণের আস্থা রক্ষা করতে এবং নির্বাচনের ফলাফলের আলোকে নীতি নির্ধারণ করতে হবে। জনগণ ইতিমধ্যেই একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে যে তারা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শাসনের প্রতি আশাবাদী।”
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রতিটি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। ভোটের দিন থেকে ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত সব ধাপ সুসংগঠিত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোও তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বজায় রেখেছে।
ইজাবস বলেন, “এ নির্বাচন শুধুমাত্র বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড স্থাপন করেছে। নতুন সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এবং দেশকে আরও গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার জন্য এ সুযোগকে কাজে লাগাবে।”
তিনি সংবাদ সম্মেলনের শেষে আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর ও সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনের মান বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নারীর প্রার্থী ও ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।